চমেক হাসপাতালের কর্মচারী ক্যান্টিন

টেন্ডার ছাড়াই ইজারা

সিফায়াত উল্লাহ

টেন্ডার ছাড়াই চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ক্যান্টিনটি ইজারা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরসঙ্গে হাসপাতাল প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও কর্মচারী সমিতির কয়েকজন নেতা জড়িত বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সমিতির কিছু নেতা অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিনা টেন্ডারে ক্যান্টিনটি বর্তমান ইজারাদারকে বরাদ্দ পাইয়ে দিয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও এর সঙ্গে জড়িত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতাল প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ক্যান্টিনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে কর্মচারীদের জন্য। অথচ সমিতির নেতারা সেগুলো পুরোপুরি হোটেলে পরিণত করেছে। ভাড়ার নামে লাখ লাখ টাকা নিজেদের পকেটে ভরছেন। আবার মেয়াদ শেষে বরাদ্দ দেয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
জানা যায়, হাসপাতাল ভবনের প্রধান ফটকের পাশে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ক্যান্টিন নির্মাণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। এর পাশে রয়েছে আরেকটি ক্যান্টিন, যেটি তৃতীয় শ্রেণি কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ। এছাড়া ডাক্তার ও মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও দুটি ক্যান্টিন বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে এসপি এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ক্যান্টিনটি পরিচালনা করছে। সেলিম নামে এক ব্যক্তি এ প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। এর আগে দুবার ক্যান্টিনটি বরাদ্দ পায় প্রতিষ্ঠানটি। গত জুন মাসের ৩০ তারিখ বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হলেও ক্যান্টিনটি আবারো ২ বছরের জন্য ইজারা পেয়েছে এসপি এন্টারপ্রাইজ।
এর আগে বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হলেও নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় টেন্ডার আহবান করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রতিযোগী না থাকার অজুহাতে বর্তমান ইজারাদারকে পুনরায় টেন্ডার দিয়ে দেয়।
জানা যায়, বরাদ্দের মেয়াদ শেষের খবর পেয়ে সিকদার এন্টারপ্রাইজ ও পিরানী হোটেল রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বিরানী হাউজ নামে দুটি প্রতিষ্ঠান ক্যান্টিনটি ইজারা নেয়ার জন্য আবেদন করে। এর মধ্যে মে মাসের ১৬ তারিখ পিরানী হোটেল রেস্টুরেন্ট এবং একই মাসের ২৪ তারিখ সিকদার এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের ডেসপাস শাখায় বরাদ্দ পাওয়ার আবেদন জমা দেয়। আবেদনের রিসিভ কপিতে ডেসপাস শাখায় দায়িত্বরত কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, একজন সহকারি পরিচালক ক্যান্টিন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকেন। বর্তমানে কমিটিতে হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. মোজাফ্ফর উদ্দিন আহমেদ দায়িত্বে আছেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি রতন আলী বলেন, ‘নিজেরা আলোচনা করে পূর্বের ঠিকাদারকে ইজারা দিয়ে দিছি।’
টেন্ডার কেন দেয়া হয়নি জানতে চাইলে রতন বলেন, ‘আমরা যেহেতু ঠিক করেছি, তাই আর টেন্ডার আহবান করা হয়নি।’
বরাদ্দ দিয়েছেন নাকি জোর করে কেউ নিয়ে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি রতন আলী বলেন, ‘বিষয়টি আপনারা ভালো জানেন। যুগ খারাপ। সব কথা কী বলা যায়। আপনি বিস্তারিত জানতে পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও হাসপাতালের সহকারি পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ ভান্ডার) ডা. মোজাফ্ফর উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এ ব্যাপারে ডা. মোজাফ্ফর উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিযোগী ছিল না। তাই টেন্ডার আহবান করা হয়নি।’
দুটি প্রতিষ্ঠানের ইজারার আবেদনের বিষয়টি জানানোর পর তিনি বলেন, একটি আবেদন পেয়েছি। তবে সেটিতে ত্রুটি ছিল। পরে আবেদনটি বাতিল হয়েছে। ত্রুটির বিষয়টি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানটির মালিককে সরাসরি জানিয়েছি। তবে অন্য কোনো আবেদন তিনি পাননি বলে জানান।
সহকারি পরিচালক ডা. মোজাফ্ফর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ক্যান্টিনটি পুর্বের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জামানত হিসেবে তিন মাসের ভাড়া অগ্রিম দিয়েছে তারা। এছাড়াও প্রতিমাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদার জায়গার ভাড়াও দেবে।’
জানতে চাইলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জেনারেল জালাল উদ্দিন সুপ্রভতাকে বলেন, সমিতির নেতাদের বলেছি, ক্যান্টিনটি তোমাদের জন্য করা হয়েছে। এটি আর বরাদ্দ দিওনা। তোমরা নিজেরা পরিচালনা কর। কিন’ তারা কথা শুনেনি।’
টেন্ডার ছাড়া ইজারার বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়ে পরিচালক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খতিয়ে দেখবো। কারণ নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার হওয়ার কথা।