তৃতীয় স্থান নির্ধারণী

শেষ ভালোর খোঁজে বেলজিয়াম-ইংল্যান্ড

দেবজ্যোতি চক্রবর্তী

আজ ভাঙা হৃদয় নিয়েই তৃতীয় স’ানের জন্য লড়বে বেলজিয়াম ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ জেতার সুবর্ণ সুযোগ ছিল বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের কাছে। কিন’ তাদের হারতে হয়েছে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। আর ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে এসে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারতে হয়েছে।
এই দুই দল এবারের আসরে একই গ্রুপে ছিল। সেই ম্যাচে ইংলিশরা হেরেছিল বেলজিয়ামের কাছে। দুই সপ্তাহ পর প্রতিশোধের সুযোগ এসে গেল সাউথগেটের শিষ্যদের সামনে। ইংলিশরা সর্বশেষ ১৯৬৬ সালে শিরোপা জিতেছিল। এরপর ১৯৯০ সালে শেষ চারে গিয়ে বিদায় নিয়েছিল। সেবার ইতালির কাছে হেরে তৃতীয় স’ান নিয়ে ফিরতে পারেনি তারা। এবার বেলজিয়ামকে হারাতে পারলে তৃতীয় স’ানটি জুটবে সান্ত্বনা হিসেবে।
বেলজিয়ামের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ বলতে গেলে এটাই। ভালো খেলেও তারা ভাগ্যের কারণে ফাইনালে যেতে পারলো না। ১৯৮৬ সালের পর ফাইনালে ওঠা দলটি যদি আজ ইংলিশদের হারায় তাহলে এই তৃতীয় স’ানই হবে তাদের এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অর্জন। ৩২ বছর আগের সেমিফাইনালটিতে তারা ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল চতুর্থ হয়ে।
দুই দলেরই শক্তি সমানে সমান। তবে গ্রুপ পর্বে জয়ের কারণে আজ সেন্ট পিটার্সবার্গে বেলজিয়ামকে এগিয়ে রাখতে হবে। মাঝমাঠ বরাবরই তাদের ভালো। কিন’ গত ম্যাচের মতো আক্রমণের গতি কমে গেলে হারের সম্ভাবনা থাকবে তাদের। হ্যাজার্ড-ডি ব্রুইনদের আরো গতিশীল হতে হবে ইংল্যান্ডের সীমানায়।
রক্ষণে থাকা কম্পানি-এল্ডারওয়ারফিল্ড-ভারটরগেনদের শরীরের ক্লান্তির ছাপ দেখা গেছে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে। গোলরক্ষক কর্তোয়া না থাকলে আরো দুটি গোল হজম করতে হতো তাদের। তাই আজ জয় আদায় করতে হলে তাদের দায়িত্ব বেশি থাকবে।
ইংলিশদের আক্রমণে স্টার্লিং বেশ পরিশ্রমী হলেও হ্যারি কেন কিছুটা পিছিয়ে আছেন। মাঝমাঠের তারকা ডেলে আলী-লিংগার্ডরা ভালো যোগান দিচ্ছেন। আজ ইংল্যান্ড যদি জিতে তাহলে এই দুইজনের জন্যই জিতবে। গত ম্যাচের মতো রক্ষণ পাহারা দিলে হবে না ট্রিপিয়ার-স্টনেসদের। রক্ষণে তিন জন খেললেও ডিফেন্সিভ দুই মিডফিল্ডারদের নজর রাখতে হবে লুকাকু-হ্যাজার্ডদের ওপর।
গ্রুপ পর্বের পর থেকে নিষ্প্রভ থাকা লুকাকু যদি আজ গোলের দেখা না পান তাহলে হ্যারি কেন গোল্ডেন বুট নিয়ে যাবেন। সেই হ্যাজার্ডের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভার করছে তার গোল্ডেন বল জেতা। এ দৌড়ে আরো আছেন গ্রিজম্যান-এমবাপ্পে ও লুকা মডরিচ।
এছাড়া গোল্ডেন গ্লাভসের জন্য লড়াইয়ে থাকা কর্তোয়া, লুইস ও সুবাসিচের সামনে আছে একটি করে ম্যাচ। এরমধ্যে দলে জয়ে যিনি ভূমিকা রাখবেন তিনি পাবেন এ পুরস্কার।
সাউথগেট অথবা মার্টিনেজ- আজ শেষ হাসি যেই হাসুক। তৃতীয় স’ান জয় হয়তো তাদের সাময়িক সান্ত্বনা হয়ে থাকবে আর সেই সাথে বিশ্বকাপের ফাইনালে যেতে না পারার যে ক্ষত তৈরি হয়েছে সেই জ্বালায় কিছুটা প্রলেপ দেবে।