শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ কাজ শেষ হচ্ছে আগস্টে

মোহাম্মদ রফিক

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে রানওয়ের নিরাপত্তা বেষ্ঠনী (সাইডস্ট্রিট) নির্মাণ কাজও। আগামী আগস্টে অ্যাপ্রোন সম্প্রসারণ কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে । পাশপাশি চলমান একাধিক প্রকল্পের শেষ হলে সক্ষমতা বাড়বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বিমানবন্দরের।
গত সোমবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে সুপ্রভাতকে বিমানবন্দরের ব্যবস’াপক উইং কমান্ডার এবিএম সারোয়ার ই জামান জানান, দশ বছর মেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আগামী অর্থবছরে শুরু হবে রানওয়ে সম্প্রসারণ ঁ ২য় পৃষ্ঠার ২য় কলাম
ঁ ১ম পৃষ্ঠার পর
কাজ। রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণের (ওভারলে) জন্য ৫৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহবান করেছে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। গত ২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেকে) এ প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিমানবন্দরের ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৬০ বর্গমিটার রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিশালীকরণ সম্পন্ন হবে।
সূত্র জানায়, ১৪ মাস আগে কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের জন্য বিমানবন্দরের দক্ষিণ পাশে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকায় ১৪৮ ফুট উচ্চতার একটি ক্রেন স’াপন করে সেতু বিভাগ। কিন’ এ ক্রেনের কারণে উত্তর দিকের রানওয়ে দিয়ে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে বাধ্য হচ্ছে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ। অন্যান্য ফ্লাইট উত্তর দিক থেকে অবতরণ করে দক্ষিণ দিকের রানওয়ে দিয়ে উড্ডয়ন করছে। তবে ১৪৮ ফুট উচ্চতা থেকে কমিয়ে ক্রেনটি বর্তমানে ১২৮ ফুট উচ্চতায় আনা হয়েছে। তবুও ফ্লাইট উঠানামার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের ট্রাফিক সিস্টেমে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আশার কথা হলো আগামী আগস্টে ক্রেনটি তুলে নেওয়া হচ্ছে।
সিভিল এভিয়েশন জানায়, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে প্যারালাল ট্যাক্সিওয়ে, রানওয়ে সমপ্রসারণ, কার্গো ভবন ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনও সমপ্রসারণ করা হবে। গত বছর ৫ এপ্রিল ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক থ্রি-ডি রাডার। এ রাডারের মাধ্যমে ২০০ নটিক্যাল মাইল বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
বিমানবন্দরের প্রকৌশলী আবু সায়েম জানান, এর আগে ঢাকা থেকে উড়োজাহাজ যাত্রার আগেই চট্টগ্রামে আসার সময়, ফ্লাইটটি কত উচ্চতায় যাবে তা ঘোষণা দেওয়া হতো। চলতি পথে প্রতিটি টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য হালনাগাদ করা হতো। নতুন রাডার স’াপন হওয়ায় বিমানের আসা-যাওয়া, ওঠানামা নিখুঁতভাবে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে।
উইং কমান্ডার সারোয়ার ই জামান জানান, শাহ আমানত বিমানবন্দরের বর্তমান রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ৬৪৬ ফুট। সম্প্রসারণ করা হবে আরও ১২হাজার ফুট। আগামী অর্থবছরে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। একাজ সম্পন্ন হলে শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারবাস-৩৮০ ও বোয়িং ড্রিম লাইনার।
কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরে অ্যাপ্রোনের আয়তন ছিল এক হাজার ২৮৭ ফুট। সম্প্রসারণ হচ্ছে ৯৩৫ ফুট। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ৮৫ শতাংশ কাজ। কাজ সম্পন্ন হলে অ্যাপ্রোনের আয়তন হবে ২ হাজার ২২২ ফুট। বিদ্যমান অ্যাপ্রোনে ৬টি উড়োজাহাজ পার্কিং সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রসারিত অ্যাপ্রোনে পার্কিং করা সম্ভব হবে ১০টি উড়োজাহাজ। এরমধ্যে ৭টি অভ্যন্তরীণ এবং তিনটি আন্তর্জাতিক রুটের। এটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের নভেম্বরে। ব্যয় হচ্ছে ৬৮ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, ১৯৪০-এর দিকে ব্রিটিশ শাসনামলে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরটি তৈরি হয়। সেসময় চট্টগ্রাম এয়ারফিল্ড হিসেবে এটি পরিচিত ছিল। পরে ১৯৭৭-৭৮ সালে ৭৬২ মিটার প্রস’ ও ৩ হাজার ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যের রানওয়ে তৈরি করা হয়। ১৯৮৪-৮৫ সালে রানওয়ের আশপাশ বর্ধিত করা হয় ও কার্পেটিং করা হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পুনরায় টার্মিনাল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সমাপ্ত করা হয়।
এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সেসময় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার জন্য জাপান সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই চুক্তির আওতায় ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ উন্নয়নকাজ শুরু হয়। ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর উন্নয়নকাজ শেষ হয়। পরে ২০১৩ সালের নভেম্বরে শাহ আমানত বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি দেয় আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস’া (আইকাও)।