শিশু রাইফার মৃত্যু

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও তিন চিকিৎসক অভিযুক্ত

৩ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন বিএমডিসির

সালাহ উদ্দিন সায়েম

নগরীর মেহেদীবাগের ম্যাক্স হাসপাতালে আড়াই বছরের শিশু রাফিদা খান রাইফার মৃত্যুর পেছনে ৩ চিকিৎসকের গাফিলতি ও চিকিৎসায় ত্রুটির কথা উঠে এসেছে স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও। শিশুটির মৃত্যুর পেছনে হাসপাতালের অব্যবস’াপনাকেও দায়ী করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সুপ্রভাতকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ম্যাক্স হাসপাতালের অভিযুক্ত এই তিন চিকিৎসক হলেন-শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী, ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব।
শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এই তিন চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের শাস্তির সুপারিশ করা হয়।
গেল রোববার চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এদিকে শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস’্যমন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সোমবার তাদের ম্যাক্স হাসপাতাল পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।
গত ২৯ জুন রাতে বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে সাংবাদিক রুবেল খানের শিশু কন্যা রাইফার মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও ভুলের অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। এ ঘটনায় চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বার্তা পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও।
এরপর এ ঘটনায় স্বাস’্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নির্দেশে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। স্বাস’্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক কাজী জাহাঙ্গীর হোসাইনকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গত ২ জুলাই চট্টগ্রামে এসে ম্যাক্স হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে। তারা হাসপাতালটির লাইসেন্স ও আরো বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত করেন। এরপর তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে এসব অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে নোটিস প্রদান করেন। ৫ জুলাই এ তদন্ত কমিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেয়ে গেল রোববার স্বাস’্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সচিবালয়ে এক বৈঠকে ৩ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নিতে নির্দেশ দেন বিএমডিসিকে।
কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার অভিযোগে ব্যবস’া নিয়ে থাকে এ প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির এ প্রতিবেদনে ম্যাক্স হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও চরম অব্যবস’াপনার চিত্র তুলে ধরা হয়।
তদন্ত কমিটির একজন সদস্য পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রভাতকে জানান, নানা অনিয়ম ও চরম অব্যবস’াপনার কারণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হাসপাতালটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
এদিকে মন্ত্রীর নির্দেশনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএমডিসির ‘শৃঙ্খলা কমিটি’ বৈঠকে বসে। এতে সভাপতিত্ব করেন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মো. আবদুর রশিদ। বৈঠকে স্বাস’্য মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে পর্যালোচনা হয়। কিন’ এ দুটি প্রতিবেদনে অসঙ্গতি থাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন করে পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল সুপ্রভাতকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও সিভিল সার্জনের তদন্ত রিপোর্টে অসঙ্গতি রয়েছে। তাই আমরা শিশুটির মৃত্যুর ঘটনাটি চুলচেরা তদন্ত করতে ৩ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে মেডিক্যাল টিম গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিএমডিসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সরকারি হাসপাতাল থেকে তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে তাদের নাম জানা যায়নি। তাদের সোমবার চট্টগ্রামে আসার কথা রয়েছে। তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।