চকরিয়ার সেই শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার

শিক্ষার্থী বিনা বেতনে এক বছর পড়বে স্কুলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়ায় কোচিংয়ের টাকা বকেয়া থাকায় শিক্ষার্থী উত্তম দাশকে পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষককেসাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থীকে এক বছর বিনাবেতনে পড়ানোর ব্যবস’াও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার চকরিয়া বিএন স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভায় এ সিদ্বান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই চকরিয়া পৌরসভার ফুলতলাস’ স্বপ্নপুরী ক্লাব লাগোয়া বিএন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক সওকতুল ইসলাম একই প্রতিষ্ঠানের ৮ম শ্রেণির ছাত্র উত্তম দাশকে কোচিংয়ের বকেয়া টাকার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে প্রহার করেন। অবশ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, শিক্ষার্থী উত্তম নিয়মিত স্কুলে না আসায় এবং পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ার কারণে ভয় দেখাতে তাকে প্রহার করেন। এতে আহত হয় ওই শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় উত্তমের অভিভাবক চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১১ জুলাই বিএন স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদ জরুরি সভার মাধ্যমে বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সওকতুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে।
একই দিন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষক-শিক্ষিকা আহত স্কুলছাত্রকে দেখতে যান। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষককে যথাযথ শাস্তি প্রদানের বিষয়টি অভিভাবককে জানানো হয় এবং ওই ছাত্রকে এক বছরের জন্য বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ দেয়ার আশ্বাস দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিএন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আতাউল্লাহ জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক ছাত্রকে পেটানোর ঘটনাটি খুবই দূঃখজনক। ওই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বহিষ্কারের চিঠি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে পাঠিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, স্কুলটি তিলে-তিলে গড়া তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হোক, তা আমরা কেউ চাই না। পরিচালনা পরির্ষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ওই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বিনাবেতনে পড়ার সুযোগের ব্যবস’া নেয়া হয়েছে। পরিচালনা পরির্ষদের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি নিয়ে যেন আর কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা না হয়, এজন্য সকল অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন অধ্যক্ষ আতাউল্লাহ।