সহিংস প্রবণতার পেছনে কি জিনের প্রভাব আছে?

সম্পাদকীয়

মানুষ কেন হিংস্র হয়, কেন নির্মমভাবে খুনখারাবি করে- এ বিষয়ে উন্নত বিশ্বে অনেক গবেষণা হয়েছে। মানুষ স্বভাবের দাস। আর এই স্বভাব গড়ে ওঠে ছোটবেলার পারিবারিক ও আশপাশের পরিবেশের প্রভাবে। যেমন, কোনো শিশু যদি চুরি, ডাকাতি, খুনোখুনির পরিবেশে বড় হয় তাহলে আত্মরক্ষার স্বার্থেই তার মধ্যে খুনোখুনির প্রবৃত্তি জন্ম নেওয়া স্বাভাবিক। কিন’ শুধু কি তা-ই? গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু পরিবেশ নয়, সেই সঙ্গে একটি বিশেষ ধরনের জিনেরও প্রভাব রয়েছে।
গঅঙঅ নামক জিন মনোয়ামাইন অক্সিডেইজ-এ নামক প্রোটিন তৈরি করে। এটা এক ধরনের এনজাইম, যা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপের নিউট্রোট্রান্সমিটারের অণুগুলো ভেঙে ফেলে। এই অণুগুলোর দায়িত্ব নার্ভসেলের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদান করা।
এসব অণুর মধ্যে যে সব উপাদান থাকে তা ব্যক্তির মুড বা মনের আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি কারো শৈশবে মনোয়ামাইম প্রোটিন নিম্নমাত্রায় থাকে এবং পরিণামে নিউট্রোট্রান্সমিটারের আধিক্য ঘটে তাহলে বড় হয়ে তার আচরণে সহিংসতা দেখা দিতে পারে।
তবে এই সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ ঘটার জন্য সহিংস পরিবেশ একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। যে সব শিশুর গঅঙঅ জিনের কার্যক্রম নিম্নমাত্রায় থাকে এবং তাদের শৈশব কাটে সহিংস পরিবেশে, বড় হয়ে তাদের আচরণে সহিংসতার আশঙ্কা বেশি।
বিশেষভাবে ছেলেদের ক্ষেত্রে এটা দেখা দেয়।
নিউজিল্যান্ডে ৫০০ জনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এর সপক্ষে ফলাফল পাওয়া গেছে। এই ৫০০ জনকে একেবারে জন্ম থেকে পরীক্ষাধীন রাখা হয়েছে। এখন তাদের বয়স বিশের কোঠার শেষে। এদের কাউকে কাউকে পরিবেশ ও জিনের প্রভাবে পরবর্তী জীবনে সহিংস হয়ে উঠতে দেখা গেছে।