হালদা রক্ষায় বামনশাহী খাল পুনঃখননের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষায় নগরীর পাঁচলাইশের বামনশাহী খাল পুনঃখনন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে গত ৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হালদা নদী রক্ষায় গঠিত বিভাগীয় কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে গত মঙ্গলবার একটি দাপ্তরিক পত্র দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
পত্রে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের অক্সিজেন এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক অনন্যা আবাসিক এলাকা নির্মাণের কারণে নিকটবর্তী বামনশাহী খাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার ফলে খালটি প্রায় ২ থেকে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকা ভরাট হয়ে প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে অতি বৃষ্টির কারণে হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয় এবং শিল্পবর্জ্য মিশ্রিত দূষিত পানি হাটহাজারীর মদুনাঘাট এলাকায় হালদা নদীতে মিশছে। ওই দূষিত পানির প্রভাবে সাম্প্রতিক সময়ে হালদা নদীতে প্রচুর মাছ মারা গেছে। পরিসি’তি বিবেচনায় হালদা নদী রক্ষায় গঠিত বিভাগীয় কমিটির সভায় বামনশাহী খাল পুনঃখননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চিঠিতে মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষার স্বার্থে বামনশাহী খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির সঠিক প্রবাহ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।
এদিকে বামনশাহী খাল পুনঃখননের জন্য একাধিকবার আওয়াজ তুলেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ ব্যাপারে গত ৪ জুলাই নগর ভবনের নিজ দপ্তরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অনন্যা আবাসিক এলাকার জন্য সিডিএ কর্তৃক বামনশাহী খালে বাঁধ দেওয়ার ফলেই শিল্পকারখানার সকল বর্জ্য হালদা নদীতে গিয়ে পড়ে। এর ফলে মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে হালদা।’
এর আগে গত ২৪ জুন দুপুরে চসিকের সম্মেলন কক্ষে সেবা সংস’াসমূহের সমন্বয় সভায় মেয়র বলেন, ‘অনন্যা আবাসিক এলাকার বামনশাহী খাল পুনঃখনন করার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে।’
বামনশাহী খাল পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও হালদা বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিল্পকারখানার বর্জ্য আগে সরাসরি হালদা নদীতে পড়ত না। বামনশাহী খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এখন বর্জ্য সরাসরি হালদাতে গিয়ে পড়ছে। বামনশাহী খাল পুনঃখনন করলে অবশ্যই হালদার জন্য ভালো হবে। কিন’ এটি আবার কর্ণফুলী নদীর জন্য খারাপ হবে। তবে কর্ণফুলী নদীতে পানির পরিমাণ বেশি ও নিয়মিত জোয়ার-ভাটা হওয়ার কারণে দূষণ খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।’