মাতারবাড়ি-ফাঁসিয়াখালীতে হবে চার লেন সড়ক

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া

জাইকার অর্থায়নে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি থেকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী পর্যন্ত চারলেন বিশিষ্ট ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। মহেশখালীতে নির্মিতব্য গভীর সমুদ্র বন্দর ও মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স’াপনের জন্য চারলেনের এই সড়ক নির্মাণের জন্য রুট এলাইনমেন্ট চূড়ান্ত করার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। জাইকার অর্থায়নে চারলেনের নতুন সড়কটি নির্মাণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চকরিয়া-পেকুয়ায় অবশেষে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উজ্জল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে দুই উপজেলার পাঁচ লাখ জনগণের ভাগ্যের দরজা খুলতে যাচ্ছে। সড়কটির কারণে দুই উপজেলায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি যোগাযোগ খাতে নতুন মাইলফলকের সুচনা হতে যাচ্ছে। সড়কটি নির্মাণে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী বাজারের নিকট এলাকায় যে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অংশ অধিগ্রহণের আওতায় পড়েছে তার বিকল্প হিসেবে করণীয় নির্ধারণে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও করা হয়েছে। মূলত এই সমস্যাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা গেলে চারলেনের নতুন সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।চকরিয়া উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত ‘মাতারবাড়ি প্রস্তাবিত বন্দর সংযোগ সড়ক প্রকল্প অংশীজনের সভায় উপসি’ত ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই সভায় উন্নয়ন সহযোগী সংস’া জাইকার (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি) প্রতিনিধিদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন জুন নাকা মুরা ও লরিও কোনো। এছাড়াও প্রকল্প ব্যবস’াপক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফকাত হাসান, কনসালটেন্সি ফার্মের নুরুল আলম ছিদ্দিক উপসি’ত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, চারলেনের বিশেষ এই সড়কটি নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন হলে একেবারে পাল্টে যাবে দৃশ্যপট। একদিকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ যেমন হবে এই এলাকায়, তেমনিভাবে বাণিজ্যিক, সড়ক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এই সড়ক। স’ানীয় বেকার ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস’ান সৃষ্টির পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাবে। তাছাড়া এই সড়কটি বাস-বায়ন হলে চকরিয়ার পুরো চিংড়ি জোন আইন-শৃঙ্খখলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। মূলত সড়ক যোগাযোগ স’াপন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত এই চিংড়ি জোনের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সব মহলকে পীড়া দিয়ে আসছিল। সেই সমস্যাও ভবিষ্যতে দূরীভূত হবে। চকরিয়া উপজেলা পরিষদে মতবিনিময় সভায় মাতারবাড়ি- ফাঁসিয়াখালী চারলেন বিশেষায়িত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস’াপক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফকাত হাসান বলেন, চারলেনের সড়ক এবং মাতারবাড়ি সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পুরোটাই অর্থায়ন করবে জাইকা।
আর বাংলাদেশ সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়টা দেখার দায়িত্ব সরকারের।প্রকল্পের ব্যবস’াপক সফকাত হাসান জানান, মূলত জাইকার প্রতিনিধিরা এই সড়কটির রুট এলাইনমেন্ট চূড়ান্তভাবে তৈরি করার জন্য অনেকবার সার্ভে করেছে। এখনও সার্ভে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্পের ওয়েব সাইটে প্রকল্পটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সংগ্রহীত তথ্যে জানা গেছে, জাপান এবং বাংলাদেশ সরকার ‘ বে অব বেঙ্গল ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট (বিআইজিবি) এর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অধীনে ২০১৫ সাল থেকে জাইকা ডেটা কালেকশন সার্ভে অন ইন্টিগ্রেটেড ডেভলপমেন্ট ফর সাউদার্ন চিটাগং রিজিয়ন বাস্তবায়ন করছে। যা এ অঞ্চলের অবকাঠামো, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, শিল্প ও শহুরে উন্নয়ন এর সম্ভাব্য উন্নয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। মহেশখালীতে পরিকল্পিত বন্দরটিই হবে উন্নয়নের মূল অবকাঠামো।