চবক চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময়ে চেম্বার সভাপতি

দ্রুত বন্দরের সক্ষমতা ও গতিশীলতা বাড়াতে হবে

বিজ্ঞপ্তি
Chamber_CPA 11-07-18 (1)

দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের তুলনায় বন্দরের কর্মকাণ্ড অধিক গতিশীল করতে হবে।
গতকাল ১১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন, গতিশীলতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আজিজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। চবক সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় চেম্বার সভাপতি বলেন-ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নের গতি ১০০ মাইল হলে বন্দরের গতি ১৫০ মাইল হতে হবে। তিনি বিভিন্ন শিপিং এজেন্ট কর্তৃক ডকুমেন্টেশনসহ নানান চার্জ আদায় বন্ধ করা, কন্টেইনারের সিকিউরিটি মানির নামে ৫ হাজার টাকা জমা বন্ধ করা, ম্যানিফেস্টেড কার্গো নিয়ে কোন জাহাজ যাতে বন্দর ত্যাগ না করে তা নিশ্চিত করা, কতিপয় আইসিডি কর্তৃক কন্টেইনারের অতিরিক্ত হ্যান্ডলিং চার্জ বন্ধ করা, সদরঘাটে নির্মিত লাইটার জেটির অপারেশন শুরু করা, নির্মাণাধীন লাইটার জেটিসমূহে ট্রাক/কাভার্ডভ্যান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, স্পেশাল পারমিশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ বাতিল করার আহ্বান জানান। তিনি বন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করার এবং লালদিয়া, পতেঙ্গা বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে শেষ করার তাগিদ দেন। মতবিনিময় সভায় চেম্বার পরিচালক অঞ্জন শেখর দাশ, মো. শাহরিয়ার জাহান ও তরফদার মো. রুহুল আমিনসহ সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ.কে.এম. আক্তার হোসেন, শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আহসানুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপসি’ত ছিলেন। বন্দর চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোর জন্য নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে অনৈতিকভাবে শিপিং এজেন্ট কর্তৃক কোন ধরনের চার্জ আদায় করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে বলে জানান। এছাড়া শিপিং এজেন্ট কর্তৃক ডি.ও. ইস্যু বিকেল ৫টার পরও অব্যাহত রাখতে হবে। বার্থিং তারিখের পরিবর্তে জাহাজ থেকে সম্পূর্ণ পণ্য খালাসের পর বন্দরের কমন ল্যান্ডিং থেকে ফ্রি টাইম কাউন্ট করাসহ নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত আইসিডি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। স্পেশাল পারমিশনের নামে কোন ধরনের চার্জ আদায় করা এবং সাধারণ কার্গোর ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্ট কর্তৃক সিকিউরিটি মানি জমা রাখা যাবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বন্দরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সদরঘাটে নির্মিত লাইটারেজ জেটি অপারেশন শীঘ্রই শুরু এবং বে টার্মিনাল এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ইয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে কন্টেইনার ডেলিভারির ব্যবস’া গ্রহণ করা হবে যা বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে তিনি জানান। একই সাথে ম্যানিফেস্টেড কার্গো রেখে জাহাজ বন্দর ত্যাগ না করা ও কন্টেইনারের ডেমারেজ চার্জের ক্ষেত্রে এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস’া নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।
সভায় অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও বন্দরের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানে বন্দর চেয়ারম্যানের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন। এছাড়া ইলেকট্রনিক লক ও সিল বিধিমালা কার্যকর হলে বন্দরের গতিশীলতা হ্রাস পাবে এবং পণ্য ডেলিভারির ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ বৃদ্ধি পাবে বলে মতামত ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে ইতোমধ্যে ব্যবাসায়ীদের পক্ষ থেকে পত্রের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও বন্দর চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়।