পাকিস্তানে নির্বাচনী সমাবেশে বোমা হামলায় নিহত ২০

তালেবানের দায় স্বীকার

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক
pakistan1

পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) এক দলীয় বৈঠকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। স’ানীয় পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মঙ্গলবার আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি-এএনপি’র নির্বাচনি প্রচারণামূলক সমাবেশে হামলায় কমপক্ষে আরও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাকিস্তানের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী হারুন বিলৌর রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর বিডিনিউজের।
এএনপি দলটি তালেবান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত। পেশোয়ারের পুলিশ প্রধান কাজি জামিল জানিয়েছেন, এএনপির নির্বাচনী বৈঠক চলাকালে এক আত্মঘাতী বোমারু সেখানে বিস্ফোরণ ঘটায়।
আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে এটিই প্রথম বড় ধরনের হামলা। টেলিভিশনের লাইভ ফুটেজে স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশকে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন পাকিস্তান তালেবানের একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করে পাকিস্তান তালেবানের মুখপাত্র মুহাম্মদ খুরাসানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সফল আত্মঘাতী বোমা হামলা প্রতিশোধের সূচনা মাত্র’। তিনি জানিয়েছেন, ‘শিগগির এই আত্মঘাতী হামলার বিস্তারিত জানানো হবে’।
এর আগে দেশটির ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তালেবান হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল এএনপি। ওই সময় এক আত্মঘাতী হামলায় এএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা বশির বিলৌর নিহত হয়েছিলেন। এবারের হামলায় তার ছেলে হারুন বিলৌর নিহত হয়েছেন, তিনি প্রাদেশিক আইন পরিষদের একজন প্রার্থী ছিলেন।
ডননিউজ জানিয়েছে, বিলৌর বৈঠকস’লে আসার পরপরই এএনপির কর্মীদের ওই বৈঠকস’লে আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। এতে বিলৌর গুরুতর আহত হওয়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানেই তিনি মারা যান।
হামলায় প্রাথমিকভাবে ১৩ জন নিহত হলেও রাত পেরোনের আগেই মৃতের সংখ্যা ২০ জনে গিয়ে দাঁড়ায়।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর তালেবানবিরোধী অভিযানে এএনপি সমর্থন জানিয়েছে, এই ভিত্তিতে দলটিকে লক্ষ্যস’ল করেছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। ২০১৩ সালের নির্বাচনের সময় এএনপির বিরুদ্ধে চালানো অধিকাংশ হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন তালেবানের তৎকালীন প্রধান মোল্লা ফজলুল্লাহ। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় ফজলুল্লাহও নিহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জাতীয় নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা হুমকির কথা বলে সতর্ক করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এই হামলার ঘটনা ঘটলো। হায়দার বলেন, পাকিস্তানে অনেক দিন ধরে থাকা শান্ত পরিসি’তি রাজনীতিকদের বাইরে বের হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। কিন’ এই হামলার পর দেখা যাচ্ছে পরিসি’তি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেক রাজনীতিক দলের নির্বাচনি প্রচারণায় এই ঘটনা প্রভাব ফেলবে।