বাকলিয়া সবুজবাগ এলাকা

ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল স্কুলছাত্র

রুমন ভট্টাচার্য

বাকলিয়া সবুজবাগ খালপাড় এলাকার দুই পাড়ের হাজারো মানুষের পারাপারে এখন একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাসহ বাকলিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, আধুনিক কিন্ডারগার্টেন, বঙ্গবন্ধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাকলিয়া সরকারি হাই স্কুলের শত শত শিক্ষার্থীকে। গত বুধবার সাঁকো পার হতে গিয়ে ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে এ সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে খালে পড়ে যায় এক স্কুলছাত্র। ঝাঁপিয়ে পড়ে এলাকার একজন তাকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচায়।
প্রত্যক্ষদর্শী পার্শ্ববর্তী দোকানদার বিপ্লব বড়-য়া ও বাকলিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম জানান, ‘বুধবার বিকাল ৪টার দিকে মায়ের সাথে প্রাইভেট পড়ে আসায় সময় বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে হঠাৎ খালে পড়ে যায় ছেলে। এ সময় মায়ের চিৎকারে এলাকার মানুষ ছুটে আসে এবং একজন খালে ঝাঁপিয়ে পরে ছেলেটিকে উদ্ধার করে। ওই ঘটনার পর থেকে এলাকায় সাঁকো পারাপারে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পারাপার ঝুঁকি কমাতে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষকরা।
গতকাল সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাকলিয়া আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দুটি বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে এলাকাবাসী পারাপারের ব্যবস’া করেছেন। সাঁকোর এক পাশে হাতল আছে অন্য পাশে নেই। সাঁকোটি সরু হওয়ায় ভারসাম্য ধরে রাখা কঠিন।’
কথা হয় সাঁকো পার হয়ে আসা গৃহিণী খুকী রানী বিশ্বাসের সাথে। তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি জেনে প্রতিদিন ছেলেকে নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হয়। সাঁকো ব্যবহার না করলে অনেক পথ ঘুরে আসতে হয়।’
চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণির ছাত্র গোপাল বিশ্বাস বলে, ‘সাঁকো পার হতে ভয় করে। এজন্য আস্তে আস্তে পা ফেলে পার হই। পিছনে থাকেন মা।’
বাকলিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ফরহাদুল ইসলাম জানালো প্রতিদিন আল্লাহর নাম স্মরণ করে সাঁকো পার হই। এসময় বুকে থু থু দিয়ে ভয় দূর করি।
এ নিয়ে বাকলিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ ছাফা বলেন, ‘বিকল্প কোনো ব্যবস’া না করে খালের ওপর থাকা তিনটি ব্রিজ ভেঙে ফেলার কারণে যাতায়াত সমস্যা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমার এবং অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে আসা-যাওয়া করছে। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে?’
উল্লেখ্য, চাক্তাই খালের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ ও মাটি উত্তোলনের কাজ শুরুর পরে বাকলিয়া সবুজবাগ খালপাড়ের পারাপারের তিন জায়গার তিনটি ব্রিজ বিকল্প ব্যবস’া ছাড়াই ভেঙে ফেলা হয়। ফলে এলাকায় যাতায়াত সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।