হাকিম আদালতে দুই মামলায় খালেদার জামিন নাকচ

সুপ্রভাত ডেস্ক

স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী করে জাতির মানহানি ও ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে’ জন্মদিন পালনের অভিযোগে দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন ঢাকার দুটি আদালত।
ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের মাঠের বিশেষ এজলাসে মহানগর হাকিম আহসান হাবীব ও খুরশীদ আলম গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন বলে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী নুরুজ্জামান তপন জানান।
এ দুটি মামলায় জামিনের জন্য খালেদার আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন। কিন’ হাই কোর্ট জামিন না দিয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন দুটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়। হাই কোর্টের ওই আদেশ আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। খবর বিডিনিউজের।
বৃহস্পতিবার হাকিম আদালতে খালেদার পক্ষে উপসি’ত ছিলেন তার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি আব্দুল্লাহ আবু।
মাসুদ আহমেদ তালুকদার পরে বলেন, ‘আদালত জামিন নাকচ করার কোনো গ্রাউন্ড বলেনি। বলেছে, গুরুত্ব বিবেচনায় জামিন নামঞ্জুর করা হল।’
আগামী ২ আগস্ট এ দুটি মামলায় শুনানির পরবর্তী দিন রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের রায়ের পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে বন্দি খালেদা জিয়া ইতোমধ্যে ওই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন’ আরও বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার থাকায় তার মুক্তি আটকে আছে।
এ কারণে ঢাকার মহানগর হকিম আদালতের ওই দুই মামলায় খালেদাকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। কিন’ হাকিম আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করে ৫ জুলাই আদেশের জন্য রাখায় ২২ মে খালেদা জিয়া হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৩১ মে যে আদেশ দেয়, সেখানে জামিন না দিয়ে খালেদার আবেদনটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে তা খারিজ করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গত ২৫ জুন হাই কোর্টের আদেশই বহাল রাখে।
এ দুটি মামলার মধ্যে একটির বাদি বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী।
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করা এ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী করে বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অবমাননা করেছেন।
এ মামলায় ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর গত ১২ এপ্রিল আইনজীবীরা এ মামলায় তার গ্রেফতার এবং একই সঙ্গে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
কিন’ আবেদনটির শুনানি কয়েক দফা পেছানো হয়। সর্বশেষ গত ১৭ মে আদালত তৃতীয় দফায় শুনানি পিছিয়ে আবেদনটি নথিভুক্ত করে ৫ জুলাই আদেশের জন্য রাখেন মহানগর হাকিম আহসান হাবীব। এ অবস’ায় খালেদার আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে যান।
মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অপর মামলাটি করেন।
এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গত ২৫ এপ্রিল একইভাবে খালেদা জিয়ার গ্রেফতার ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।
মহানগর হাকিম খুরশীদ আলম এ আবেদনটি গত ১৭ মে শুনানির জন্য রাখে। ওইদিন আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দিয়ে ৫ জুলাই জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য রাখে। পরে এ মামলাতেও জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে গিয়ে বিফল হন খালেদা জিয়া।