ছয় মাসে আওয়ামী পরিবারের ৩২৩ জন নেতাকর্মীর পদত্যাগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, জুরাছড়ি

জুরাছড়ি উপজেলায় আওয়ামী লীগ অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম সংগঠিত হতে না হতেই উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকে অব্যাহতি নিয়েছেন। দলের সভাপতি ও সাংগঠনিক সংগঠক জ্ঞানমিত্র চাকমা দলের সাধারণ সম্পাদক ধনবিকাশ চাকমার অব্যাহতিপত্র পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।
আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন কৃষক লীগের বিলুপ্তি ঘোষণাসহ ৩২২ জন কর্মীর পদত্যাগের হিড়িক চার মাস পর্যন্ত স’গিত থাকার পর আবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ধনবিকাশ চাকমার অব্যাহতি যোগ হয়ে সংখ্যাটি দাঁড়াল ৩২৩ জন। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য বনবিহারী চাকমা ও দুই উদয়ীমান নেতা দলের সকল কার্যক্রম থেকে পদত্যাগ করেন। তারা হচ্ছেন যুবলীগ সভাপতি সুমতি বিকাশ দেওয়ান ও সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর চাকমা। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ধনবিকাশ চাকমা পারিবারিক সমস্যাকে পদত্যাগের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাংগঠনিক সংগঠক জ্ঞানমিত্র চাকমা জানান, পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ধনবিকাশ চাকমা অব্যাহতি নিয়েছেন। তার অব্যাহতিপত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়ার জন্য জেলা কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
জুরাছড়িতে নেতাকর্মীদের পদত্যাগে উদ্বেগ জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁদের নেতাকর্মীদের হত্যার ভয় দেখিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করছে। তবে জনসংহতি সমিতি বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়াই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পদত্যাগের মূল কারণ বলে তাদের দাবি।
উল্লেখ্য, বিগত বছর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমা হত্যাকাণ্ডের ৪দিন পরে উপজেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে পদত্যাগের হিড়িক পড়ে। প্রথম দফায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি কালাধন চাকমা, যুগ্ম সম্পাদক পব্বন বিকাশ চাকমা, সহ-সভাপতি অনিল কুমার চাকমা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক দীপংকর কার্ব্বারী, যুবলীগের অর্থ সম্পাদক উত্তম কুমার চাকমা, মহিলা লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক টুনি চাকমা, জুরাছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হৃদয় রঞ্জন চাকমা, কৃষক লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সনদ কুমার চাকমা, কার্যকরী কমিটির সদস্য ফুলেশ্বর চাকমা, ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রপ্তদীপ চাকমা রকিসহ নব্য যোগদানকৃত সাবেক দুমদুম্যা ইউপি চেয়ারম্যান রাজিয়া চাকমা, বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য কৃষ্ণা চাকমা পদত্যাগ করেন।
এছাড়া পরবর্তী সময়ে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য কালাচান চাকমা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রমোদ কান্তি চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক লাল বিহারী চাকমাও পদত্যাগ করেন। তারা সবাই ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যাকে পদত্যাগের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দু চাকমার হত্যাকাণ্ডে এসআই মো. মাইন উদ্দিন বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে মামলা করেন। জুরাছড়ি থানার অফিসার ইনর্চাজ মো. আব্দুল বাছেদ মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান।