‘বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম’

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের জন্মের মধ্যেই বাঙালির স্বাধীন সত্তা অভ্যুদয়ের ইঙ্গিত মেলে। বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যই আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল।
গতকাল নগর আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় একথা বলেন বক্তারা। আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দারুল ফজল মার্কেট দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ৪৭ সালে বাঙালিদের একচেটিয়া ভোটে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল। কিন’ অল্প কয়েক দিনের মাথায় তৎকালীন বাঙালির রাজনৈতিক নেতৃত্ব উপলব্ধি করেন যে, পাকিস্তান নামক অবৈজ্ঞানিক রাষ্ট্র কাঠামোয় বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে বাঙালিদের শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার তাগিদ থেকেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম হয়।
তিনি বলেন, ওই সময়ে মাওলানা ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক ও কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু তার সুদক্ষ নেতৃত্বে ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন। নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ৬৫ সালের পাক্-ভারত যুদ্ধের পর তাসখন্দ চুক্তিতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান স্বাক্ষর করলে পাকিস্তান ফুঁসে উঠে। ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বিরোধী দল একটি রাজনৈতিক কনভেনশন আহ্বান করলে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সম্বলিত ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
নগর আওয়ামী লীগের অপর সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে উদ্দীপ্ত করে ’৭০এর সাধারণ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের বিজয় এবং এই বিজয়কে বানচাল করার চেষ্টা করা হলে ৬ দফা একদফায় রূপান্তরিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। আজকের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের ফসল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন।
নগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকের পরিচালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নগর সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী, বদিউল আলম ও
এম এ রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান ও চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর প্রমুখ।
এরআগে সভার শুরুতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যবধি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারসহ সকল নেতাকর্মীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে দারুল ফজল মার্কেট দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনের দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।