হালদা পাড়ে মানববন্ধন

ক্ষতিকর শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যার জলে ভেসে আসা শিল্পবর্জ্য হালদা নদীসহ হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হালদা নদীসহ আশেপাশের জলাশয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। শিল্পবর্জ্যের বিষক্রিয়ায় পরিবেশের এমন ক্ষতিকে রুখতে গতকাল দুপুরে মদুনাঘাট এলাকায় হালদা নদীর উপর নির্মিত সেতু সংলগ্ন সড়কের দুই পাশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা, শিকারপুর, উত্তর মাদার্শা, উরকিচর ও বুড়িশ্চর ইউনিয়নের বাসিন্দারা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে মানববন্ধনটি আয়োজন করেন। তাদের এ আয়োজনে সংহতি জানিয়ে যোগ দেয় পরিবেশবাদী সংগঠন হালদা রক্ষা কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে হালদা নদী, তৎসংলগ্ন সাতটি খাল ও এলাকার জলাশয় দূষণ বন্ধের এবং শিল্প-কারখানাগুলোকে তাদের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। এ দাবি আদায়ের জন্য পরবর্তীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা আসে মানববন্ধনের উপসি’তিদের বক্তব্যে।
পরিবেশ সচেতনদের দীর্ঘ এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান লিখিত প্লে-কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অধিকাংশ ব্যানারগুলোতে লেখা ছিল- ‘বাংলাদেশের নদী, বাংলাদেশের প্রাণ / দেশ বাঁচাতে নদী বাঁচান’, ‘নদী আমার, জমি আমার / শিল্প তোমার, বর্জ্য
তোমার’, ‘চাষের জমিতে বর্জ্য কেন?’, ‘হালদার মাছ মারব না, দেশের ক্ষতি করব না’ ইত্যাদি।
হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘হালদাকে বাঁচাতে চাইলে অবিলম্বে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে। হালদার আশপাশের শাখা খালও বর্জ্যমুক্ত করতে না পারলে হালদা নদীকে রক্ষা করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘বায়েজিদ থেকে কুলগাঁও নন্দীরহাট পর্যন্ত সব কারখানার বর্জ্য হালদা নদী সংলগ্ন খালে ফেলা হচ্ছে। ফলে নদীর সাথে সংযুক্ত খাল ও তৎসংলগ্ন জনপদের জমি ও জলা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। অবশেষে খাল বেয়ে সেসব বর্জ্য এসে পড়ছে হালদায়। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে শিল্পবর্জ্যের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় আমাদের পরিবেশ এমনভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে, এতে নদীসহ ফসলি জমিতেও মাছ মারা যাচ্ছে।’
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন শাহ্ বলেন, ‘হালদাকে বাঁচাতে হলে হাজারিখীল, খন্দকিয়া, মাদারী খালকে রক্ষা করতে হবে। আমরা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নই, কিন’ শিল্পবর্জ্যের বিরুদ্ধে। তারা এই বর্জ্যকে লোকালয়ে ছড়িয়ে দিয়ে আজ জীববৈচিত্র্যকে হুমকিতে ফেলছে। তাই এ মানববন্ধনে আমরা শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস’াকে পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানাচ্ছি।
শিকারপুর চেয়ারম্যান আবুবক্কর বলেন, ‘হালদার মত অনন্য নদী বিশ্বে বিরল। কিন’ আমাদের অবহেলায় নদীটি মরতে বসেছে। শুধু হালদা নয় আশেপাশে যে খালগুলো আছে সেগুলোকেও রক্ষা করতে হবে নয়তো পরিবেশ রক্ষা করা যাবে না।’