একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন অফিসে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস’তি নিতে শুরু করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা তৈরি, সীমানা নির্ধারণ, নতুন ভোটকেন্দ্রের তালিকাসহ বেশকিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছরের শেষদিকে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) কাজের নির্দেশনা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে ভোটগ্রহণের প্রস’তি সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করেছে ইসি।
জানা যায়, চলতি মাস থেকে নির্বাচনী এলাকার জন্য ভোটার তালিকা মুদ্রণ কাজ শুরু হয়েছে। সঙ্গে ভোটারদের ছবি ও ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রণয়ন কাজও চলছে। এছাড়াও ভোটের সময় প্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়ে দরপত্র আহ্বান করেছে ইসি।
অন্যদিকে ভোটের সময় দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের নামের তালিকা সংগ্রহের প্রস’তি চলছে। আগামী মাসে তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু হবে।
তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে এখনো অনড় বিএনপি। অন্যদিকে সংবিধান অনুয়ায়ী নির্বাচনের কথা বলছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগে নগরীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শেষ করা হবে। পাশাপাশি উপজেলাগুলোতে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রামে সংসদীয় আসন রয়েছে ১৬টি। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৭০টি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য তৈরিকৃত তালিকায় চট্টগ্রাম জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ৬২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৭ লাখ ৯১ হাজার ৪৮ জন ও মহিলা ভোটার ২৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৭৭ জন।
দশম সংসদ নির্বাচনের চট্টগ্রাম জেলায় ভোটার সংখ্যা ছিল ৪৯ লাখ ২২ হাজার ৪৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৫ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৫ ও মহিলা ভোটার ২৪ লাখ ৭ হাজার ৯০২ জন।
জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের জন্য ২০১৮-১৯ সালের বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ইসি। এর মধ্যে ৬০০ কোটি টাকা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য।
দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইসির জন্য ১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।
এব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মনির হোসাইন খান সুপ্রভাতকে বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর জন্য এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। তবে আমরা নির্বাচনে লাগবে এমন কিছু কাজ গুছিয়ে রেখেছি। যাতে বেকায়দায় পড়তে না হয়।
উল্লেখ্য, সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনে দেশের ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।