বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে সেমিনার

‘নৌবাহিনী সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রসারে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে’

বিজ্ঞপ্তি

বিশ্ব ‘হাইড্রোগ্রাফি দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস’াপনায় চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে ‘স্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিস অডিটরিয়ামে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, সমুদ্রপথে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মকবুল হোসেন, ওএসপি, বিসিজিএমএস, এনডিইউ, পিএসসি।
এসময় তিনি বলেন, সমুদ্রের তলদেশের গভীরতা এবং প্রকৃতির উপর সম্যক জ্ঞান লাভ ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বিধায় বিশ্বব্যাপী হাইড্রোগ্রাফির গুরুত্ব ক্রমশই বাড়ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সমুদ্রে নিরাপদ নেভিগেশনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নটিক্যাল চার্ট তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়া, নৌবাহিনীর তৈরিকৃত চার্টসমূহ বিশ্বব্যাপী মেরিনারগণ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজসমূহের সমুদ্রে নেভিগেশনের জন্য ব্যবহার করছে। এসকল চার্ট
মুদ্রণ ও বিশ্ববাজারে বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ইলেকট্রনিক নেভিগেশনাল চার্ট তৈরির সামর্র্থ্য অর্জন করেছে যা বিশ্বব্যাপী মেরিনারদের জন্য সহজলভ্য করার প্রক্রিয়া চলছে। এর ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সামুদ্রিক বাণিজ্য প্রসারে এবং নিরাপদ নেভিগেশনে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, রিয়ার অ্যাডমিরাল এম আবু আশরাফ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মেরিটাইম সংস’াসমূহের প্রতিনিধিগণ, ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপসি’ত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ব অর্থনীতির উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী বাজারজাতকরণের জন্য সাগর-মহাসাগর অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। বিশ্ব বাণিজ্যের শতকরা নব্বই ভাগের বেশি মালামাল সমুদ্রের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়ে থাকে। ফলে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভিসেস সমুদ্রে নিরাপদ চলাচলের লক্ষ্যে নটিক্যাল চার্ট ও পাবলিকেশন্স এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া সমুদ্র তলদেশের আকৃতি-প্রকৃতি ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্ল্লেষণের মাধ্যমে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, ড্রেজিং, অফশোর কন্সট্রাকশন, ক্যাবলস ও পাইপলাইন স’াপন, টেলিকমিউনিকেশন্স, আবহাওয়া ও জলবায়ু বিজ্ঞান, সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, এ্যাকুয়াকালচার, ফিশিং, বায়োমেডিসিন, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রমে হাইড্রোগ্রাফিক বিভিন্ন গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যা একদিকে অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে তেমনি কর্মসংস’ানের সুযোগ তৈরি করে। ফলে সমুদ্রের উত্তরোত্তর ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে।