ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে হামলা

গেইট ইজারাদারসহ ৯ জনের নামে মামলা

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে গত মঙ্গলবার সরকারি বন্ধের দিনে দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ে ইজারদার পক্ষের হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় অবশেষে আদালতে একটি নালিশী মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক (রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো. মোরশেদুল আলম বাদি হয়ে মামলাটি করেছেন।
মামলার আর্জিতে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে পার্কের গেইট ইজারাদার
নাছির উদ্দিন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর ছোটভাই। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন পার্কের ইজারদার পক্ষের অংশীদার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিক উদ্দিন মেম্বার, সহযোগী ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া গ্রামের সজিব, আরাফাত, মনুর আলম, জসিম উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, মিনহাজ উদ্দিন মিনু ও জিয়াউল হক।
সাফারি পার্কে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতে মামলা রুজু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদি পক্ষের কৌঁশলী অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, আদালতের বিচারক বাদির নালিশী মামলার অভিযোগটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই সাথে আসামিদের গ্রেফতারের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণের জন্য আদালত চকরিয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদি সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম জানান, বাংলাদেশ গেজেটমুলে সরকারি ভাবে সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার সাফারি পার্ক বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে। কিন’ ঘটনার দিন মঙ্গলবার (১৯ জুন) দুপুরে পার্কের ইজারাদার নাছির উদ্দিন, রফিক উদ্দিন এবং সহযোগি সজিবসহ ১০-১২জনের একটি দল অতর্কিত পার্কের দুই গেইটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এরপর তারা পার্কে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ঢুকিয়ে দেয়। ঘটনার সময় তিনি (রেঞ্জ কর্মকর্তা) বাধা দিতে গেলে তাকে এবং পার্কের কর্মচারী খোরশেদ আলীকে মারধরে করে হামলাকারীরা। ঘটনার এক পর্যায়ে রেঞ্জ কর্মকর্তার পকেট থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লুটে নেয়।
মামলার আর্জিতে বাদি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় হামলাকারীরা পার্কের দুইটি গেইটের তালা ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি বেশ কটি প্রাণীর মুরাল ভাঙচুর করা হয়। ওইসময় ভীতি ছড়াতে তারা পার্কের বাইরে অন্তত ৮ থেকে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। ঘটনার এক পর্যায়ে পার্কের সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাফারি পার্কের কর্মীরা পাঁচ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছুঁেড়ন। হামলার এ ঘটনায় পার্কের সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন, সরকারি বন্ধের দিনে পার্কের গেইট খোলার নামে অরাজকতা তৈরি ও পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে জিম্মি করে সরকারি কর্তব্য পালনে বাধা দেয়া হয়েছে বলে মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাফারি পার্কের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত মামলা সংক্রান্ত আদালতের কোন কাগজপত্র থানায় পৌঁছেনি। তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে আদালতের আদেশ মতে কাগজপত্র পেলে পুলিশের পক্ষ থেকে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেয়া হবে।