নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় উত্তাপ

নাছির-ছালামের কথা কাটাকাটি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপড়্গের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। গতকাল নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় দুই নেতার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
নগরীর দারম্নল ফজল মার্কেট দলীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অংশ নেওয়া নগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুপ্রভাতকে জানান, সভায় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির তাঁর বক্তব্যে সংগঠনের ৬টি ওয়ার্ডের দ্বৈত কমিটি স’গিত করার সিদ্ধানেত্মর কথা বলছিলেন। এসময় নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যড়্গ আবদুচ ছালাম এমন সিদ্ধানেত্ম আপত্তি জানিয়ে নির্বাচনের আগে ৬টি ওয়ার্ডের দ্বৈত কমিটি স’গিত না করার পড়্গে মত দেন। তখন আ জ ম নাছির সংগঠনের শৃঙ্খলার স্বার্থে ৬টি ওয়ার্ডের দ্বৈত কমিটি স’গিতের বিষয়ে বলতে গিয়ে একপর্যায়ে নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা তোলেন।
জানা গেছে, এরআগে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন তাঁর বক্তব্যে নগরীর ভাঙাচোরা রাসত্মাঘাট ও জলাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নগরীতে জলাবদ্ধতা ও অনেক রাসত্মাঘাট ভাঙাচোরার কারণে আমাদেরকে জনগণের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আমরা সরকারি দল বিধায় আমাদের কিছু সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। রাসত্মাঘাট ঠিক করার দায়িত্ব মেয়রের। তিনি আমাদের নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী সিডিএ’কে দিয়েছেন। সিডিএ চেয়ারম্যান নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যড়্গ। আপনাদের বলতে হবে, আপনারা কখন এই সমস্যার সমাধান করবেন ?’
জানা যায়, সভায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে মেয়র নাছির তাঁর বক্তব্যে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছালামকে উদ্দেশ করে নাছির বলেন, ‘আপনি জলাবদ্ধতা নিরসনে বিশাল বাজেট এনেছেন, নগরবাসীকে মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছেন। আপনি এক বছরের মধ্যে আদৌ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারবেন?’
এসময় ছালাম জবাব দেন, ‘নগরীর ৭ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে আগে পানি উঠতো। আমি সেখানকার খাল, নালা পরিষ্কার করায় সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সেখানে পানি উঠেনি। আর আমি বলেনি এক বছরের মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারবো। আমি ধাপে ধাপে পদড়্গেপ নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন করবো।’
তখন মেয়র নাছির বলেন, আপনার বক্তব্যের কারণে মানুষ বিভ্রানত্ম হচ্ছেন। এতে সরকারের বিরম্নদ্ধে মানুষের ড়্গোভ বাড়ছে।
এ কথার জবাবে ছালাম বলেন, ‘সিডিএ মানুষকে বিভ্রানত্ম করছে না, সিটি করপোরেশন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রানিত্ম তৈরি করছে।’
জানা গেছে, দুই নেতার বাকবিত-ায় সভা উত্তপ্ত হয়ে উঠে। নগর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ একপর্যায়ে তাদেরকে নিবৃত্ত করেন।
এ বিষয়ে জানতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের মোবাইল ফোনে একাধিবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
তবে দুই নেতার বাকবিত-ার কথা স্বীকার করে নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে আমরা তাদের থামিয়ে দিই।’
এদিকে সভায় নগর আওয়ামী লীগের ছয়টি ওয়ার্ড স’গিতের সিদ্ধানত্ম হয়েছে। ওয়ার্ডগুলো হলো-৪ নম্বর চাঁন্দগাও ওয়ার্ড, ৫ন ম্বর মোহরা ওয়ার্ড, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ড, ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড এবং ৩৪ নম্বর পাথরঘাটা ওয়ার্ড।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব ওয়ার্ডে সমন্বয় করে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধানত্ম হয়।
এছাড়া সভায় নগর আওয়ামী লীগের যেসব নেতা থানা ও ওয়ার্ড কমিটির পদে আছেন, তারা সেসব পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির ঘোষণা দেন।
সভায় ২৭ জুন নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে বর্ধিত সভা ও ঈদ পুনর্মিলনী করার সিদ্ধানত্ম হয়। এতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত থাকবেন বলে জানানো হয়।