মানববন্ধনে স্ত্রীর দাবি

অনিক হত্যার পেছনে ‘বড় হাত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘নিশ্চয় আমার স্বামী হত্যার পেছনে ‘বড় হাত‘ আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, আমার স্বামীর খুনিরা যাতে পার পেয়ে না যায়।’
নগরের দামপাড়ায় যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার আবু জাফর অনিক হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে উপরোক্ত কথা বলেন অনিকের স্ত্রী রুনা আখতার অরিন। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বিকাল চারটার দিকে অনিকের বাসা দামপাড়া পল্টন রোড থেকে ‘বাগমনিরাম ওয়ার্ড এলাকাবাসী’র ব্যানারে কালো পতাকা নিয়ে নারী-পুরুষের একটি মৌন মিছিল ব্যাটারি গলি, এসএস খালেদ রোড হয়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আসে। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন শ্রমিক লীগ নেতা শফর আলী। মিছিল শুরুর আগে পল্টন রোডে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।
এসময় মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাবার সামনে ছেলেকে নৃশংস কায়দায় হত্যার ঘটনা যে কত বেদনাদায়ক তা একমাত্র বুঝবেন অনিকের বাবাই। আমি পুলিশকে আহবান জানাই, অনিক হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করুন।’
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য দেন নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা অনিক হত্যাকণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন করতে এসেছি। রাজনীতি করতে আসিনি। এখন তো পরিসি’তি এমন যে, যারা খুন হয় তারা হয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী। আর যারা খুনি তারা হয়ে যায় স্বনামধন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি অনিকের খুনিদের গ্রেফতারে অবিলম্বে হকুম দিন।’
মানববন্ধনে নিহত অনিকের বাবা চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. নাছির উদ্দিন তার চোখের সামনে কীভাবে ছেলেকে যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন তুষার, মিন্টু, ইমন ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে তার বর্ণনা দেন। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার চোখের সামনে ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে খুনিরা। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’
অনিকের স্ত্রী রুনা আখতার অরিন বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘কী বলব বুঝতে পারছি না। তিনি (অনিক) তো কোনো রাজনীতি করতেন না। সামান্য বেতনে চাকরি করতেন। সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তুষারের বিরুদ্ধে ৭-৮টি মামলা আছে। সে কীভাবে জামিন পায়।’ শ্রমিক লীগ নেতা শফর আলী বলেন, ‘অনিক হত্যাকাণ্ডের চারদিন পেরিয়ে গেল। অথচ একজন আসামিও গ্রেফতার করলো না পুলিশ। আমরা জানতে চাই কেন ?
মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সুনীল সরকার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা ভারী সেটি বুঝবেন সন্তানহারা বাবা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অনিক হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। খুনিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে চকবাজার থানা ও পুলিশ কমিশনার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।’ আসামিরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পেরে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশের প্রতি আহবান জানান তিনি।
বাগমনিরাম ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা কামরুল হোসেন প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ১৮ বছর ধরে রাজনীতি করছি। তুষার কী করে যুবলীগের পরিচয় দেয়। অনিকের খুনিরা চিহ্নিত। তবু তাদের ধরছে না কেন পুলিশ।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুর, বাগমনিরাম ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা আমিনুল ইসলাম শামীম, জসিম উদ্দিন চৌধুরী, কামরুল হোসেন, শওকত উল্লাহ, শামসুল হক, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য কফিল উদ্দিন ও আবুল বশর।
বক্তারা বলেন, ফেসবুকে নিহত অনিককে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর চক্রান্ত হচ্ছে। ‘খুনি’ তুষারকে ভালো মানুষ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এরা কারা? অনিকের খুনিদের বাঁচানোর জন্য নীলনকশা বাস্তবায়ন হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরে এ যাবত যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে এসবের মূলহোতাকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। মূলহোতা গ্রেফতার ছাড়াই বিচারকাজ চালানো হয়েছে।