কেমন বন্ধুত্ব!

সিফায়াত উল্লাহ

নগরীতে বাসের ধাক্কায় গতকাল মঙ্গলবার তিথি বড়-য়া (২১) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। খুলশী হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনিবাস সিএনজি অটোরিক্সাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস’লে তিথি মারা যান। এসময় গাড়িতে ছিলেন তিথির আরও তিন বন্ধু। কিন’ ঘটনার পর তিথির
নিথর দেহ রেখে পালিয়ে যান তার বন্ধুরা। পরে পথচারীরা তিথিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
তিথিকে বহনকারী সিএনজি অটোরিক্সাটির চালকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, জিইসি মোড় থেকে চারজন তরুণ-তরুণী গাড়িতে উঠে। এরমধ্যে দুই জন ছেলে এবং দুই জন মেয়ে। তারা ফয়’স লেক যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া করেছিল। পথিমধ্যে দুর্ঘটনার ঘটলে তিথিকে রেখে বাকি তিনজন পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে খুলশী থানার এসআই মাহবুল আলম বলেন, দুর্ঘটনায় তিথির দুই বন্ধু এবং সিএনজি অটোরিক্সা চালক সামান্য আহত হয়। কিন’ তিথিকে রেখে তার বন্ধুরা পালিয়ে যায়। হয়তো তারা ভয় পেয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করছেন। অনেকেই এদের বন্ধুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফেইসবুকে জালাল উদ্দিন সাগর নামে একজন লিখেছেন, ‘মাথার আঘাত পেয়ে ঘটনাস’লেই মারা যায় তিথি। ভেসে যায় রক্তস্রোতে। অল্প আহত হয় সাথে থাকা অন্য একটি মেয়ে ও দুইটি ছেলে। কিন’ কষ্টের ব্যাপার হলো সাথে থাকা বন্ধুদের কেউ তিথিকে হাসপাতালে নিয়ে যায়নি। ঝামেলামুক্ত হতে ঘটনার পরপর ওরা পালিয়েছে। আহ কী বন্ধুত্ব আমাদের! রক্তাক্ত অবস’ায় বন্ধুর লাশ রাস্তায় ফেলে ঝামেলা এড়াতে পালিয়ে যাই আমরা!’