ইতিহাস গড়া জয় জাপানের

দেবজ্যোতি চক্রবর্তী

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়লো জাপান। দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের বিরুদ্ধে এশিয়ার কোনো দলের এটিই প্রথম জয়। তাছাড়া এটিকে প্রতিশোধও বলা যেতে পারে। গত বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল জাপানকে।
এবারের বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপটিতে শিরোপা জয়ী কোনো দল নেই। তাই কলম্বিয়া আর পোল্যান্ডকেই ফেভারিট মানা হচ্ছিলো তাদের তারকা খেলোয়াড়ের কারণে। কিন’ সেই হিসাব বদলে দিলো সামুরাইররা।
মোরডোভিয়া এরেনা সারান্সকে গতকাল খেলার ৬ মিনিটেই পেনাল্টি পায় জাপান। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি কাগাওয়া। এর আগে ৩ মিনিটে কলম্বিয়ার সানচেজ নিশ্চিত গোলটি হাত দিয়ে আটকে দেয়। বল হাতে ধরার খেসারতও পেয়েছেন তিনি। লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠের বাইরে পাঠায় রেফারি। এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপে সুয়ারেজও একই কাণ্ড ঘটিয়ে লাল কার্ড দেখেছিলেন। তবে সেবার তিনি নায়ক হয়ে গিয়েছিলেন দলের পরাজয় ঠেকিয়ে। কিন’ সানচেজের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টোটা। এই কলম্বিয়ান বিশ্বকাপে দ্বিতীয় দ্রুততম লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়।
এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে কলম্বিয়া। রদ্রিগেজকে ছাড়া খেলতে নেমে শুরু থেকে তাদের
আক্রমণ হানতে বেগ পেতে হচ্ছিলো। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করে কলম্বিয়া। কোয়েনতারো বলটি উড়িয়ে না মেরে নিচে শট নেন। আর তার এই কৌশলে ধোকা খায় জাপানের গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে বল ধরলেও সেটি গোল লাইনের বাইরে চলে গেলে খেলায় সমতা ফেরে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে খেলার ধরন পরিবর্তন করতে কোচ পেকারম্যান নামান হামেস রদ্রিগেজকে। কিন’ তাতেও তেমন কোনো লাভ হয়নি। ৮৮ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন এ স্ট্রাইকার। কয়েকটি আক্রমণের সুযোগ পেলেও তা সফল করতে পারেনি কলম্বিয়া।
এর আগে খেলার ৭৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পায় জাপান। কর্নার থেকে হোন্ডা কিক নিলে পোলিশ ডিফেন্ডারদের বাধা পেরিয়ে ওসাকো হেড করলে সাইডবারে লেগে বল জড়ায় কলম্বিয়ার জালে। এরপর বাকি সময়টুকু আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ছক কষতেই কাটিয়েছে দুই দল।