চকরিয়া ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক

ইজারাদার ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

চকরিয়ায় ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ে ইজারাদার ও পার্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এঘটনায় অন্তত ১০ জন দর্শনার্থী আহত হয়েছে। গতকাল বিকাল ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ইজারাদার পক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে পার্কের তিনটি গেট ভাংচুর করে।
পার্কের ইজারাদার মোহাম্মদ মোহাম্মদ তারেক মুঠোফোনে জানান, ‘মঙ্গলবার পার্ক সরকারিভাবে বন্ধ থাকার নির্দেশনা থাকলেও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) গোলাম মাওলার কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে পার্ক খোলা রাখার মৌখিক অনুমতি নিয়েছি। এ সংক্রান্ত ফোন রেকর্ড আছে। অনুমতি পাওয়ার পর মঙ্গলবার পার্কে আগত প্রায় এক হাজার দর্শনার্থীর মধ্যে টিকিট বিক্রি করি। কিন’ পার্কের সংশ্লিষ্টরা পার্কের গেট খুলে দিতে দেড় লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।
তিনি জানান, তাদেরকে (পার্কের কর্তৃপক্ষ) ৭৫ হাজার টাকা দিতে চাইলেও তারা দেড় লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকেন। দর্শনার্থীরা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে পার্কে ঢুকতে না পেরে হট্টগোল শুরু করে। এতে পার্ক কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের উপর ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ভয় দেখায়। ওইসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে এঘটনায় ১০ জন দর্শনার্থী আহত হন। আহতদের স’ানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সহকারী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, সরকারিভাবে সপ্তাহে প্রতি মঙ্গলবার সাফারি পার্ক বন্ধ থাকে। ফলে মঙ্গলবার পার্কের সব গেট তালা দিয়ে রাখা হয়। কিন’ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বা সরকারিভাবে কোন ধরনের অনুমতি না নিয়ে মঙ্গলবার বন্ধের দিনে পার্কের ইজারাদার পক্ষের লোকজন দশনার্থীদের প্রবেশ করতে টিকিট বিক্রি শুরু করে। পরে পার্ক খুলে দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় দুপুর দুইটার দিকে ইজারাদার পক্ষের ১৫-২০ জনের অস্ত্রধারী লোক পার্কে ঢুকে হামলা করে।
মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় ইজারাদার পক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে ৮ থেকে ১০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এলাকায় ভীতিকর অবস’া সৃষ্টি করে। ওইসময় আমরা (পার্ক কর্তৃপক্ষ) আত্মরক্ষার্থে পাঁচ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করি। ঘটনার পরপর ইজারাদার পক্ষের লোকজন টিকিট বিক্রির টাকা নিয়ে চম্পট দেয়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনার পরপরই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে পরিসি’তি নিন্ত্রয়ণে আনেন।