নগরীর নালা-নর্দমা মাটি ও আবর্জনায় ভরা

পরিষ্কারের অনুরোধ জানিয়ে মেয়রকে কাউন্সিলরের চিঠি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিয়মিত সংস্কারের অভাবে নগরীর ছোট-বড় নালা-নর্দমা মাটি ও আবর্জনায় ভরে গেছে। একই সাথে সড়ক সংলগ্ন নালাগুলোও বালি আর মাটিতে ঢেকে গেছে। ফলে বৃষ্টিতে পানি সহজে সরে যেতে পারছে না। এতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দুর্ভোগে পড়ছেন নগরবাসী। নালা সংস্কার ও মাটি-আবর্জনা উত্তোলনের প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়ার জন্য একাধিক ওয়ার্ড কাউন্সিলর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে চিঠি দিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর চকবাজার চকসুপার মার্কেট ও কাঁচা বাজারের সংলগ্ন নালাগুলো মাটি আর আবর্জনায় ভরা। জিইসি মোড় থেকে দুই নম্বর গেইট এলাকার রাস্তা ডান পাশের নালা অপরিষ্কার দেখা যায়। এমনকি নগরীর সবচেয়ে উঁচু ওয়ার্ড জামাল খান ওয়ার্ডের টাইলস বসানো ফুটপাত আর রাস্তার মাঝখানের সরু নালাগুলো; যেগুলো দিয়ে পানি বড় নালাতে প্রবেশ করে, সে সব নালা অপরিষ্কার।
চকবাজারের অধিবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বড় মিয়া মসজিদের বিপরীতে যেখানে ময়লার ডাস্টবিন আছে, সেদিকের নালা মাটি-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে এলাকাবাসী। এ নালাগুলো নিয়মিত সংস্কার করলে আমরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতাম।
দুই নম্বর গেইট এলাকার অধিবাসী ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘শুলকবহর মেহমান ক্লাবের সামনের নালাটি অপরিষ্কার। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়ে পথচারীরা।’
আগ্রাবাদ এলাকার অধিবাসী ইকরামুল আল ইমতিয়াজ বলেন, ‘আগ্রাবাদের শান্তিবাগের নালা-নর্দমাগুলো সংস্কার করা হচ্ছে না। ফলে মাটি-আবর্জনায় ভরে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। নালা ভরাট হওয়ার কারণে পানি সরে যেতে পারে না।’
এদিকে, এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নালা সংস্কার ও মাটি উত্তোলনের প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করার জন্য মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে গত ৭ জুন একটি দাপ্তরিক পত্র দিয়েছেন ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এসএম এরশাদুল্লাহ। একই বিষয়ে গত ১০ জুন মেয়রকে পত্র দিয়েছেন ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।
কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী তার চিঠিতে লিখেছেন, রামপুর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত মাটি উত্তোলন/পরিষ্কার না করায় বর্তমানে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে নর্দমা উপচে পড়া দুর্গন্ধযুক্ত পানি এলাকাবাসীরর বাসা বাড়িতে প্রবেশ করে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
চিঠিতে জরুরিভিত্তিতে সবুজবাগ এলাকার নালাসমূহ থেকে মাটি উত্তোলনসহ পরিষ্কার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করার জন্য মেয়রের প্রতি অনুরোধ জানান কাউন্সিলর।
কাউন্সিলর মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, ‘কয়েকটা নালা অপরিষ্কার আছে। সেগুলো পরিষ্কার করার জন্য বলেছি। পরিষ্কার করার পরও বৃষ্টিতে বালি এসে আবার নালা ভরে যায়।’
এ ব্যাপারে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘নালা পরিস্কার করার জন্য কাউন্সিলরদের কাছে লেবার থাকে। নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে তাদের মাধ্যমে নালা পরিষ্কার করা হয়। তবে নালায় যে পরিমাণ ময়লা ফেলা হয়, তা পরিষ্কার করতে ওই লেবার দিয়ে হয় না। এর জন্য বাজেট ও জনবল প্রয়োজন। এছাড়া খাল পরিষ্কার করার জন্য সিডিএর মেগা প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। আমরা করতে গেলে দ্বৈততা হতে পারে।’