বৃষ্টি নেই তবুও রাস্তায় পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনভর ভারী কিংবা টানা বর্ষণ ছিল না, তবুও রাস্তা ও অলিগলিতে ছিল পানি।
গতকাল বুধবার চকবাজার চকসুপার মার্কেট থেকে কাঁচাবাজার, ডিসিরোড, গণি কলোনি, কে বি আমান আলী রোড, বি এড কলেজ, বাকলিয়া প্রিমিয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ গলি, বড় মিয়া মসজিদ, হাজী ছালেহ আহমদ সড়ক এলাকায় বেলা ১২টায় দেখা গেছে এ চিত্র। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে ডুবছে এসব এলাকা। আর এ দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। এসব পানি নামতেও সময় লাগছে প্রায় ২-৩ ঘণ্টা। ঁ ১১ পৃষ্ঠার ১ম কলাম
কারণ এখানকার নালা ও ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরা। পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকায় এলাকার মানুষ, পথচারী, ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
এমনিতেই টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে নাকাল সবাই। একটু স্বস্তি নেওয়ার যেন সুযোগ নেই। বৃষ্টির থামার পর এবার শুরু হলো জোয়ারের পানি আসা।
গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিন দেখা যায় জোয়ারের পানিতে লোকজনের ভোগান্তির চিত্র। রিক্সা চালকরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করেছে দ্বিগুণ ভাড়া। বাজার, মার্কেট ও কাজে বের হওয়া মহিলাদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
ধুনীরপুল সেতুর পাশ দিয়ে তৈরি করা হাঁটার পথ দিয়ে চকবাজার আসছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও মীম আকতার। এসেই কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে পড়লেন। শুধু এরা দু’জন নন। ঐ পথ দিয়ে আসা সবার অবস’া প্রায় একইরকম। অনেকে বাধ্য হয়ে হাতে জুতা হাতে নিয়ে পানিতে হাঁটা শুরু করলেন। আবার অনেকে রিক্সা চালকদের দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে পার হয়েছেন। রাস্তার ওপর বসা ভাসমান ব্যবসায়ীদের কষ্টে পড়তে হয়।
এ সময় কথা মীম আকতারের সাথে। তিনি বলেন, ‘সকালে কাজ না থাকায় বের হলাম মার্কেটে যাব বলে। কিন’ চকবাজার কাঁচাবাজারে সামনে আসতেই দেখি পানি আর পানি। বৃষ্টি হওয়া না হওয়া দেখছি একই কথা। রিক্সা চালকরা ১০ টাকার ভাড়া ৩০টাকা দাবি করছে।’
এদিকে, জোয়ারের পানি চকবাজার এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানে পানি ঢুকে পড়তে দেখা গেছে। এ সময় মার্কেটে ও দোকানে আসা ক্রেতারা বন্দি হয়ে পড়েন।
দোকানদার মো. সেলিম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে কোনো বেচাবিক্রি নেই। আজ সকালে (গতকাল) দোকান খুললাম। বেলা ১২টার দিকে জোয়ারের পানি দোকানে ঢুকে পড়ে। এভাবেই চলছে প্রতিদিন। বাধ্য হয়ে এখন দোকান ছেড়ে দিতে হবে। এখানে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’