উত্তর জেলা যুবদলের নতুন কমিটি

গোলাম আকবর ও মীর হেলালের ‘বাজিমাত’

নিজস্ব প্রতিবেদক

৭ বছর পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের ঘোষিত কমিটিতে ‘বাজিমাত’ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
গতকাল উত্তর জেলা যুবদলের ঘোষিত পাঁচ সদস্যের কমিটির সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম আকবরের অনুসারী। আর সাধারণ সম্পাদক এস এ মুরাদ চৌধুরী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে মীর হেলালের ঘনিষ্ঠ। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম নুরুল হুদাও গোলাম আকবরের অনুসারী। জসিম ও নুরুল হুদা দুজনের বাড়িই রাউজানে। মুরাদ হলেন রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা।
সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী। আর সাংগঠনিক সম্পাদক আওরঙ্গজেব মোস্তফা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারী। ইউসুফ চৌধুরীর বাড়ি হলো রাউজানে আর মোস্তফার বাড়ি হলো সীতাকুণ্ডে।
যুবদলের ঘোষিত এই কমিটিতে উত্তর জেলার আওতাধীন সাতটি উপজেলার মধ্যে কেবল রাউজান থেকে তিন জন এবং রাঙ্গুনিয়া ও সীতাকুণ্ড থেকে ১ জন করে ঠাঁই পেলেও চারটি উপজেলা থেকে কোনো নেতার স’ান হয়নি।
২০১১ সালের ২ নভেম্বর কাজী সালাউদ্দিনকে সভাপতি ও সোলায়মান মঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক করে উত্তর জেলা যুবদলের ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন হয়েছিল।
দলীয় সূত্রের খবর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কারাবন্দি আসলাম চৌধুরীর অনুসারী কাজী সালাউদ্দিন এবারও যুবদলের কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি আগের কমিটিরও সভাপতি পদে ছিলেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গিয়াস কাদেরের প্রার্থী ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী। দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে জেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার অনুসারী কেউ ঠাঁই পাননি।
জেলা যুবদলের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, গিয়াস কাদের ও আসলাম চৌধুরীর দুই অনুসারীকে গুরুত্বহীন পদে বসিয়ে ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে গোলাম আকবর ও মীর হেলাল ‘বাজিমাত’ করেছেন বলে মনে করছেন তারা।
যুবদল নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, গোলাম আকবর ও মীর হেলালের কাছে গিয়াস কাদের ও আসলাম চৌধুরী ধরাশয়ী হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সভাপতি হাসান মোহাম্মদ জসিম একসময় গিয়াস কাদেরের সঙ্গী ছিলেন। পরে কমিটি নিয়ে গিয়াস কাদেরের সাথে মতবিরোধে জড়িয়ে তিনি গোলাম আকবরের কাছে ভিড়েন। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা থাকার কারণে জসিমকে নিয়ে যুবদল নেতাকর্মীদের কারও আপত্তি নেই। যত আপত্তি সাধারণ সম্পাদক মুরাদ চৌধুরীকে নিয়ে। তিনি রাঙ্গুনিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত সাদেক চৌধুরীর আপন ভাতিজা। আওয়ামী লীগ পরিবারে বেড়ে উঠা মুরাদ দীর্ঘ দিন প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। ৮ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। কিন’ তাঁকে জেলা যুবদলের দায়িত্বশীল অনেক নেতা ভালো করে চেনেন না বলে অভিযোগ করেছেন তারা। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী দলের আন্দোলন-সংগ্রামে মুরাদ নিস্ক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ তাদের।
জেলা যুবদলের আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর নাছিরের অনুসারী সোলায়মান মঞ্জু সুপ্রভাতকে বলেন, ‘আমি গত ৭ বছর জেলা যুবদলের নেতৃত্বে ছিলাম। এই সময়ে দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডে আমি মুরাদের উপসি’তি দেখিনি। জেলা যুবদলের অনেক নেতাকর্মী তাকে চেনেনও না।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সামনে জেলা বিএনপিতে একটা ‘বিশেষ উদ্দেশ্য’ নিয়ে মীর হেলাল রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা মুরাদ চৌধুরীর জন্য গোপনে দলের শীর্ষ পর্যায়ে সুপারিশ করেন।
তবে মীর হেলাল সুপ্রভাতের কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করে কমিটি করেছে। যাদের যোগ্য মনে করেছে তাদের হাতে নেতৃত্ব দিয়েছে।’
এস এ মুরাদ চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, ‘মীর হেলালের সাথে আমার সম্পর্ক আছে বটে কিন’ আমার কমিটিতে স’ান পাওয়ার পেছনে তাঁর ভূমিকার বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। মীর হেলালসহ আমার জন্য আরো অনেক নেতার সুপারিশ ছিল।’
মীর হেলাল গত কয়েক বছর ধরে হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। হাটহাজারী থেকে যুবদলের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান মঞ্জু নতুন কমিটির সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। তিনি মীর নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। হাটহাজারী থেকে যুবদলের আরেক নেতা ইলিয়াছ আলী ছিলেন সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হকের অনুসারী। এই দুই নেতার কেউই ঠাঁই পাননি কমিটিতে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মঞ্জু কমিটিতে স’ান না পাওয়ার পেছনে হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় কেন্দ্রীয় এক তরুণ নেতার কূটকৌশলও ছিল। আলোচিত যুবদল নেতা মঞ্জু ভবিষ্যতে হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন-এমন শঙ্কায় তাঁকে কমিটির ভাইটাল পদে নিয়ে আসাটা নিরাপদ মনে করেননি কেন্দ্রীয় ওই তরুণ নেতা।