৩৩ ব্যাংকের সুদহার দুই অঙ্কের ঘরে

সুপ্রভাত ডেস্ক

আবারও উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে ব্যাংক ঋণের সুদহার। চলতি বছরের শুরু থেকে প্রতি মাসেই বেড়েছে ব্যাংক ঋণের সুদহার। বিনিয়োগের অভাবে কয়েক বছর ধরে ব্যাংক ঋণের সুদহার ছিল নিম্নমুখী।
উদ্যোক্তাদের দাবির মুখে এক অঙ্কে নেমে এসেছিল সুদহার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট ৫৭ টি ব্যাংকের মধ্যে বর্তমানে ৩৩টি ব্যাংকের গড় সুদহার বেড়ে দুই অঙ্কে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদহার কিছুটা কম হলেও অধিকাংশ বেসরকারি ব্যাংকের ঋণের সুদহার বেড়েছে।
গত ডিসেম্বরে ১৬টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার দুই অঙ্কে পৌঁছালেও জানুয়ারিতে এসে ১৯টি ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার দুই অঙ্কে পৌঁছায়। সর্বশেষ গত এপ্রিল শেষে ৩৩টি ব্যাংকের ঋণের সুদহার এখন দুই অঙ্কে।
মেয়াদি, চলতি, এসএমই, শিল্প এবং ভোক্তাসহ সব ঋণের ক্ষেত্রে গড়ে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ সুদ নিচ্ছে এবি ব্যাংক; ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ দি সিটি ব্যাংক; ১১ দশমিক ০৯ শতাংশ আইএফআইসি ব্যাংক; উত্তরা ব্যাংক ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ; ইস্টার্ন ব্যাংক ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ; এনসিসি ব্যাংক ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ; সাউথইস্ট ব্যাংক ১০ দশমিক ১৭ শতাংশ; ঢাকা ব্যাংক ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ; সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ; ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ; মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ; স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশ; ওয়ান ব্যাংক ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ; এক্সিম ব্যাংক ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ; মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ; প্রিমিয়ার ব্যাংক ১১ দশমিক ২১ শতাংশ; ব্যাংক এশিয়া ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ; ট্রাস্ট ব্যাংক ১০ দশমিক ০২ শতাংশ; শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ; যমুনা ব্যাংক ১১ দশমিক ০৬ শতাংশ; ব্র্যাক ব্যাংক ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ; এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ; সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ; মেঘনা ব্যাংক ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ; মিডল্যান্ড ব্যাংক ১১ দশমিক ৯৫ শতাংশ; দি ফারমার্স ব্যাংক ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ; ইউনিয়ন ব্যাংক ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ; এনআরবি ব্যাংক ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ; এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং মধুমতি ব্যাংক ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
এদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ঋণের গড় সুদহার ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের সুদহার ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানতের ক্ষেত্রে গড়ে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। অন্যদিকে ঋণের ক্ষেত্রে আদায় করছে গড়ে ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ সুদ। একই সময়ে ১১ টি ব্যাংকের স্প্রেড (ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান) পাঁচ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে বেশি স্প্রেড রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংকের।
যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান চার শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। সে অনুযায়ী, বর্তমানে ৪০টি ব্যাংকের স্প্রেড চার শতাংশের ওপরে রয়েছে।
গত ৩০ মে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের ঋণের সুদহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি করছে। ঋণের সুদহার অযৌক্তিক মাত্রায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। ঋণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নতুনভাবে খেলাপি ঋণ সৃষ্টির ঝুঁকি এড়াতে ঋণের সুদহার না বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঋণ চাহিদা বৃদ্ধি, তারল্য সংকট ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) পরিপালনের কঠোরতা আরোপ করায় ঋণের সুদহার বাড়ছে। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ঋণের সুদহার বাড়ায় ব্যাংকগুলো। এরপর ধারাবাহিকভাবে ঋণের সুদহার বাড়াতে থাকে ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে দুই থেকে পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত সুদহার বাড়ানো হয়েছে। গত বছর আট থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলেও চলতি বছরে ঋণ পেতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।