এবার কিমের সাথে দেখা করতে চান শিনজো আবে

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক গ্ধ
Press-conference-by-Abe

সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠকের পর এবার কিমের সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আগ্রহের কথা আবে নিজেই জানিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের। আশির দশক থেকে উত্তর কোরিয়ার হাতে আটক থাকা জাপানি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে কিমের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আবে। বৈঠকে জাপানিদের মুক্তির বিষয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ট্রাম্পের সাথে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে জানিয়ে আবে বলেছেন, ‘মঙ্গলবারে বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ায় জাপানিদের অপহৃত হওয়ার বিষয়টি কিমকে জানিয়েছেন। আমি খুব আশাবাদী এর ভালো একটা সমাধান আমরা পাবো। আমরা প্রত্যাশা করছি, খুব শিগগির জাপান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় মিলিত হবে।’ কিমের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে ট্রাম্প তাকে অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের পর এক যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার (উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক নাম) নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আর চেয়ারম্যান কিম জং-উন কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণরূপে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার যে দৃঢ় ও অবিচল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’
উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণরূপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে রাজি হয়েছে উল্লেখ করে আবে আরও বলেন, ‘নিঃসন্দেহে কিমের সাথে ট্রাম্পের বৈঠক ঐতিহাসিক গুরুত্ববহন করে। টোকিও বৈঠকটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
‘উত্তর কোরিয়ার অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ ও লোকবল আছে। এই আলোচনার মধ্যে দিয়ে তাদের সম্ভবনার পথ আরো উন্মুক্ত হলো। জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী উত্তর কোরিয়াও সব ধরনের সুবিধা পাবে।’
এদিকে পৃথক আরো একটি সংবাদ সম্মেলনে জাপানের মন্ত্রী পরিষদের মুখ্য সচিব ইয়োশিদে সুগা বলেছেন, ‘অপহরণ বিষয় নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতে টোকিও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।’
১৯৭৭ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নিকটবর্তী জাপানের নিগাতা এলাকা থেকে সর্বমোট ১৭ জাপানিকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল উত্তর কোরিয়া; যাকে উত্তর কোরিয়ার ‘অপহরণ’ বলে আখ্যায়িত করে আসছে জাপান। কিন’ পিংয়ংইয়ং বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসছিল। ফলে এর সুরাহার জন্য জাতিসংঘের দারস’ হয় জাপান।
অনেক বির্তক শেষে ২০০২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাপানের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কজুমির কাছে উত্তর কোরিয়ার তৎকালীন নেতা দ্বিতীয় কিম জং ১৩ জন জাপানিকে আটক করা হয়েছে বলে স্বীকার করেন এবং পাঁচ জনকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস’া করেন। বাকিরা মৃত্যু বরণ করছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
জাপানিদের ভাষা ও সংস্কৃতি শিখতে তাদেরকে বন্দি করা হয় জানিয়ে এর জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন কিম জং। পরবর্তীতে জাপান তার বাকি নাগরিকদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করলেও উত্তর কোরিয়া অস্বীকার করে।
২০১৪ সালের জুলাইয়ে শিনজো আবে স্টকহোমে এক বৈঠকে ফের একটি চুক্তি মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় বন্দি জাপানিদের ফিরিয়ে দিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে, কিন’ পরবর্তীতে আর তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
‘অপহৃতদের’ পরিবারের ক্রমাগত দাবিরে প্রেক্ষিতে জাপান সরকার দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ঝুলে থাকা বিষয়টির সমাধান করার চেষ্টায় আছে। মঙ্গলবারের ট্রাম্প-কিমের বৈঠকের পর ঝুলে থাকা সমস্যাটি সমাধানের একটি নতুন পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে জাপানের কর্তৃপক্ষ।