আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল

হাঁটু পানিতে চরম দুর্ভোগ রোগীদের

নিচতলার কার্যক্রম বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা বৃষ্টির ফলে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে
পড়েছে। এতে নিচতলার জিএফ ওয়ার্ডের রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আউটডোরের সেবা দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় তলায়। এছাড়াও পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ফার্মেসির ওষধুপত্র ও মালামাল।
খবর নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালের নিচতলার জিএফ ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ জন রোগীকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে স’ানান্তর করা হয়েছে। নিচতলার আউটডোর সেবা নিতে আসা রোগীদের দ্বিতীয় তলায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রোগী ও স্বজনেরা পানি ডিঙিয়ে উপরে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে পানির মধ্যে সেবা দিতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, দুইদিন ধরে নিচতলায় পানি জমে আছে। আসা যাওয়াতে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। নিচতলার সব ধরনের সেবা বন্ধ রয়েছে। রুমগুলোতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ফার্মেসির কিছু ওষুধ পানিতে ভিজে গেছে।
৬৫০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালে ওয়ার্ড রয়েছে ১৪টি। হালিশহর, পতেঙ্গা, বন্দরসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার লোকজন এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। প্রতিদিন কয়েকশ রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এছাড়াও আউটডোরে সেবা নেন শত শত রোগী। কিন’ টানা বর্ষণের ফলে জলজটের কারণে রোগীরা সেবা নিতে গিয়ে পড়ছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।
এব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হক সুপ্রভাতকে বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে হাসপাতালের নিচ তলায় পানি ঢুকে গেছে। সেজন্য নিচতলায় রোগীদের অন্যত্র সরানো হয়েছে। আউটডোরের সেবা দ্বিতীয় তলায় দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। চেষ্টা চলছে সেবা অব্যাহত রাখতে। এখনো পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা ঠিকমতো চলছে।
এদিকে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা ও তার আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে জলাবদ্ধতা। ক্রমশ এ জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে নদীতে পরিণত হয় পুরো এলাকা। জোয়ারের সময় ও বর্ষাকালে তলিয়ে যায় বিশাল এলাকা।’
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, সরকারি কলোনি, বহুতলা কলোনি, সোনালী ব্যাংক অফিসার্স কলোনি, মা ও শিশু হাসপাতাল এলাকা তলিয়ে ছিল পানির নিচে। গত দুইদিন ধরে পানি নামেনি এসব এলাকা থেকে।