চাক্তাই খালের আবর্জনা রাস্তায়

দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ, পানি না নামায় দুর্ভোগ বাড়ছে

রুমন ভট্টাচার্য

আবর্জনায় ঠাসা চাক্তাই খালে পানি প্রবাহ একেবারেই বন্ধ। ফলে খালটির আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অলিগলির পানি নামছেই না। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিবন্দি হয়ে থাকছেন এলাকার বাসিন্দারা। এমনিতেই টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে নাকাল এলাকার লোকজন। এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে খালের ময়লা-আবর্জনা।
আবর্জনার কারণে চাক্তাই খালের পানি চলাচল বন্ধ থাকায় পানি ফুলে আবর্জনাগুলো ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তা ও বিভিন্ন এলাকার অলিগলিসহ নিচতলার বাসাবাড়িতে। এতে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী থেকে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা। চাক্তাই খালের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের অবস’া এখন খুবই করুণ।
সোমবার ও মঙ্গলবার সকালে চকবাজার ও পশ্চিম বাকলিয়ায় বিভিন্ন এলাকা ও অলিগলি ঘুরে দেখা গেল এ ভোগান্তির চিত্র। এ নিয়ে পথচারী ও এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভেরও কমতি নেই।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখা গেল রসুলবাগ আবাসিক এলাকা ও চকবাজার ধুনীরপুলের সংলগ্ন চাক্তাই খালের আবর্জনার ভয়াবহ চিত্র। এ নিয়ে রয়েছে নানান মন্তব্যও। কবে, কখন চাক্তাই খাল থেকে আবর্জনা তোলা হবে এ নিয়ে এলাকাগুলোতে চলছে নানান আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষোভও দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট সংস’ার প্রতি।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, চকবাজার ধুনীরপুল, পশ্চিম বাকলিয়া কে বি আমান আলী রোডের পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুলতলা ব্রিজ থেকে রসুলবাগ আবাসিক এলাকার বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পর্যন্ত খালটি আবর্জনায় ঠাসা। পানি চলাচল একেবারেই বন্ধ। খালের ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় উঠে রসুলবাগ আবাসিক এলাকার একদিকের পথচারী ও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ব্রিজটি পানি ও আবর্জনায় ডুবে রয়েছে।
রসুলবাগ আবাসিক এলাকার সেলুন মালিক ছোটন শীল বলেন, ‘চাক্তাই খালটি পরিষ্কার না করায় অনেকটা বন্ধ হয়ে আছে পানি চলাচল। এখন বৃষ্টি হলেই পানির সাথে উঠে আসছে ময়লা-আবর্জনা। সৃষ্টি হচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধের। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস’া চললেও সংশ্লিষ্টদের এসব নজরেই আসছে না।’
স’ানীয় বাসিন্দা হারাধন দাশ বলেন, ‘একদিকে পানি অন্যদিকে আবর্জনার দুর্গন্ধ। এই কয়দিন এভাবেই চলছে। দুর্ভোগ আর কতদিন এভাবে চলবে কে জানে।’
ব্যবসায়ী মোরশেদুল আলম বলেন, ‘সোমবার রাত ১১টায় চকবাজার হয়ে আসতে কে বি আমান আলী রোড হয়ে পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি স্কুলের সামনে আসতেই দেখা গেল বৃষ্টির সাথে সাথে খালের ময়লা-আবর্জনারগুলো ভেসে আসছে। এই ময়লা-আবর্জনা মাড়িয়েই অনেকে ছুটে যাচ্ছেন। ২০ টাকা রিক্সা ভাড়া আদায় করেছে ৫০ টাকা।’
এদিকে, চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকার ধুনীরপুলের কাজের কারণে তৈরি করা হাঁটাচলার ডানদিকের পথটি পানিতে ডুবে গেছে। খালটি আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরপুর। চাক্তাই খালের বাঁধটি সামান্য কাটা হলেও ময়লা-আবর্জনার কারণে পানি চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে।
চকবাজার কাঁচাবাজার এলাকার বাসিন্দা সুজিত দে বলেন ‘ঘরে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৪ বার ঘরের পানি পরিষ্কার করলাম। পানির সাথে ভেসে আসছে বিভিন্ন ধরনের ময়লা। অসহ্য দুর্গন্ধ। পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এখন চুলকানি সমস্যায় ভুগছি।’
সুজিত দে এর মেয়ে শম্পা দে বলেন, ‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছি এবার বৃষ্টি থামার জন্য। কারণ কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না।’
চকবাজার রহমান মার্কেট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ কর (বাবু) বলেন, ‘টানা তিনদিন এলাকার মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কি যে কষ্টে আছে বোঝাতে পারব না। পানি এখন পরিষ্কার করলে আবার বৃষ্টি আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে। চাক্তাই খালের আবর্জনার কারণে আমাদের এই দুরাবস’া। সময়মতো পরিষ্কার করলে আমাদের দুর্ভোগ অনেকটা কমতো।’