বৈরি আবহাওয়া

থমকে আছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ

অলস সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলজট আর ভোগ্যপণ্যের ক্রম নিম্নমুখী দামের কারণে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখনও অবিক্রিত ছোলা, খেঁজুর প্রভৃতি রমজানের ভোগ্যপণ্য গুদাম ভর্তি থাকলেও ক্রেতার অভাবে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে তারা। চালের দাম কিছুটা ঊর্ধমূখী হলেও চাক্তাই চালপট্টিতেও বেচাবিক্রি নেই বলে বিক্রেতারা অলস সময় পার করছেন।
গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, নালা-নর্দমা ছাপিয়ে উঠে বৃষ্টির পানি দোকানের সম্মুখস’ রাস্তায় থইথই করছে। দু-চারটা দোকানে পানি ঢুকে জিনিসপত্র নষ্টও হয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে পানি না ঢুকলেও ঢুকার মতো অবস’া তৈরি হয়েছিল প্রায় সব দোকানে। খাতুনগঞ্জের মধ্যভাগে অবসি’ত হামিদুল্লা বাজারের পেঁয়াজ-রসুনের পাইকারি দোকান ‘জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স অ্যান্ড সন্স’ এ দেখা গেল ইট-সিমেন্ট নিয়ে দুই মিস্ত্রি দোকানের সম্মুখভাগের দেওয়াল উঁচু করছেন। জানতে চাইলে দোকানের ব্যবস’াপক রবিউল আলম সুপ্রভাতকে বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে যেকোন সময় দোকানে পানি ঢুকে যেতে পারে। তাই আগেভাগে সতর্কাবস’ান নিয়ে রাখছি।
মো. আলমগীর নামের অপর এক ব্যবসায়ী ব্যবসার খারাপ অবস’ার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমাদের গুদামে এখনও ২০০-৩০০ বস্তা ছোলা অবিক্রিত অবস’ায় আছে। অস্ট্রেলিয়া ও মায়ানমারের ছোলা যথাক্রমে ৫০ ও ৫২ টাকা থেকে কমিয়ে ৪৮ ও ৫০ টাকায় নিয়ে আসা হলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এখন এতগুলা অবিক্রিত ছোলা নিয়ে কি করব জানি না।’
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলাইমান বাদশাহ সুপ্রভাতকে বলেন, ঈদের পূর্বক্ষণে এসে ভোগ্যপণ্যের বেচাবিক্রি কমে যাওয়াটা স্বাভাবিক হলেও এ বছর অবস’া বেশি নাজুক। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বহুমূখী সমস্যায় আক্রান্ত। একটু বৃষ্টি হলেই এখানে হাঁটু সমান পানিতে থইথই করে। দোকানে পানি ঢুকে যাওয়ার ভয়ে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ উপায় থেকে উদ্ধার পেতে হলে চাক্তাই খালের পাকা তলা ভেঙ্গে দ্রুত খনন করতে হবে।
বর্তমানে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা খারাপ যাওয়ার পেছনে এ ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, আগে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা আসতেন কেনাকাটা করতে। বর্তমানে ‘এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ’ আইনের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা আর এ মুখো হন না। ফলে দিনদিন আমাদের ব্যবসা খারাপের দিকে চলে যাচ্ছে।
চাক্তাই চালপট্টির ব্যবসায়ী এম সরোয়ার চৌধুরী সুপ্রভাতকে বলেন, চালের দাম কিছুটা বাড়তি হলেও বেচাবিক্রি এখন বলতে গেলে নাই-ই, আমরা একধরনের অলস সময়ই কাটাচ্ছি।
গতকাল পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৬ টাকা, রসুন ৪৪ টাকা, আদা ৪৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ান সাদা ছোলা ৪৮ টাকা, মায়ানমারের হলদে ছোলা ৫০ টাকা, চনার ডাল ২৫ টাকা, মসুর ডাল (চিকন) ৫৫ টাকা, মসুর ডাল (মোটা) ৪৫-৫০ টাকা, খেসারি ৩৮ টাকা এবং চিনি ৪৮ টাকা।