ঈদযাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
Eidul Fitar_Busy Passenger_Ctg Railwaya station (3)

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে রেলস্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের বাড়তি চাপ লক্ষ করা গেছে। বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলজট ও যানজট উপেক্ষা করে অধিকাংশ মানুষ ট্রেন ছাড়ার বেশ কিছু সময় আগে স্টেশনে ভিড় করে। নির্দিষ্ট সময়ে রেলগাড়ি স্টেশনে পৌঁছালে যাত্রীদের কোলাহল শুরু হয় নির্দিষ্ট আসন খুঁজে নিতে। আজ এ ভিড়ের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন চট্টগ্রাম রেল কর্তৃপক্ষ।
গতকাল চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, দুপুর তিনটার পর থেকে স্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু হয়। বিকাল পাঁচটায় চাঁদপুরগামী ও ঢাকাগামী দুইটি ট্রেনের জন্য ভিড় করা লোকগুলো অপেক্ষা করতে থাকেন স্টেশনে। নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে স্টেশনে আসার কারণ জানতে চাইলে যাত্রীরা জানায়, বৃষ্টি কখন আসে তার ঠিক নেই। যদি বৃষ্টির কারণে দেরি হয়ে যায়, তাহলে ট্রেনতো আর অপেক্ষা করবে না। তাই স্টেশনে এসে রেলের জন্য অপেক্ষা করছি।
অন্যদিকে বৃষ্টিসহ কোনো কারণে যেন রেলের শিডিউল বিপর্যয় না ঘটে এবং জননিরাপত্তা যেন যথাযথ নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস’াপক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘নানা কারণে রেলের শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে। এখন বৃষ্টির কারণে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করবো শিডিউল বিপর্যয় যেন যাত্রীদের ভোগান্তির কারণ না হয়। এছাড়া যাত্রী নিরাপত্তায় রেল পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। আশা করি, যাত্রীদের যাত্রায় আমরা যথাযথ নিরাপত্তা প্রদান করতে পারবো।’
রেলের অতিরিক্ত বগি সংযোজনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) শিডিউলে না থাকার কারণে সব রেলে অতিরিক্ত বগি সংযোজিত হয়নি। তবে আগামীকাল (বুধবার) থেকে সকল ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজিত হবে। তাই আগামীকাল (বুধবার) ঈদ যাত্রায় ভিড় আরো বাড়বে।’
ট্রেন ছাড়ার পূর্বমুহূর্তে স্টেশনের শত শত যাত্রী ছাদে উঠায় অনিরাপদ যাত্রার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি কঠোরভাবে দমন করার জন্য রেল মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই রেল পুলিশের পাশাপাশি স্টেশন এলাকায় র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান রেল পুলিশের প্রধান পরিদর্শক সত্যজিৎ দাশ। তিনি বলেন, ‘এবার জননিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োজিত আছেন। রেল কর্তৃপক্ষও আমাদের যথাযথ সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। এরপরও আমরা যাত্রীদের দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপদ যাত্রার পরামর্শ দিচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে, বাফারে কিংবা ইঞ্জিনে ভ্রমণ করা বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কেউ আইন ভঙ্গ করলে, আমরা তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া গ্রহণ করবো। এছাড়া অনেকে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে। এমন অপরাধে কেউ ধরা পড়লে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন দণ্ড ভোগ করতে হবে।’