চার ফ্যাশন ডিজাইনারের পোশাক প্রদর্শনী হাটখোলায়

আজিজুল কদির

কার পোশাক কতটা সুন্দর এই নিয়ে চলে নিত্য প্রতিযোগিতা। এ থেকেই বুঝা যায়, পোশাকের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বেড়েছে। বেড়েছে সচেতনতাও। পোশাকে নকশার ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ পরিবর্তনের কারণটাই ফ্যাশন ডিজাইন পেশাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে।
সে হিসেবে গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে অনেক মেধাবী ফ্যাশন ডিজাইনার। আর তাদের মধ্যে অন্যতম ফ্যাশন ডিজাইনার হলেন আইভি হাসান, লুৎফা সানজিদা, মনিদীপা দাশ, শারমিন পপি।
উক্ত চার ফ্যাশন ডিজাইনার এর পোশাক নিয়ে তিনদিনব্যাপী এক প্রদর্শনী গতকাল নগরীর সার্সন রোডস’ হাটখোলায় শুরু হয়েছে। ঈদ কালেকশন ২০১৮ শীর্ষক উক্ত প্রদর্শনীতে ছিল সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দেশীয় পোশাকে আধুনিকতার ছোঁয়া।
এর মধ্যে ডিজাইনার আইভি হাসান এর প্রদর্শিত পোশাকের মধ্যে শাড়ি, ফতুয়া, কুর্তি ও পাঞ্জাবি ছিল অনবদ্য। দৈনন্দিন সাধারণ পোশাকগুলোই ডিজাইনারের ছোঁয়ায় অন্য রকম হয়ে উঠেছে। শাড়ির আঁচলে উঠে এসেছে বাংলার চিরন্তন রং লাল-সবুজ। পাঞ্জাবিতেও দেখা যায় আধুনিকতার পরশ। তরুণ-তরুণীদের উপযোগী প্রতিটি পোশাকে রয়েছে মার্জিতভাব ও রুচির ছাপ। সেই সাথে নজর কেড়েছে বৈচিত্র্যময় চুড়ি, কানের দুল, গলার সেট এর অনবদ্য সমাহর।
আবার ডিজাইনার মনিদীপা দাশ এর নকশা করা পোশাকে রয়েছে সুঁতি ও এন্ডি কাপড়ের ব্যবহার। ছিমছাম ডিজাইনের পাঞ্জাবিগুলোতে আরও নতুনত্ব এসেছে। এগুলোর সঙ্গে এক্সক্লুসিভ পাঞ্জাবি তো রয়েছেই। উৎসবের কারণে সালোয়ার-কামিজগুলোতে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার হয়েছে এবং কন্ট্রাস্টও রয়েছে। উক্ত প্রদর্শনীতে ডিজাইনার মনিদীপা তৈরি করেছেন সিলভার মেটালে ও গামছা কড়ি দিয়ে আকর্ষণীয় বেশ কিছু গহনা ।
অন্যদিকে ডিজাইনে প্রিন্টের ব্যবহার, কারুকাজে পরিমিতিবোধের সঙ্গে রুচিশীলতার ধারাবাহিকতা দেখা গেছে ডিজাইনার শারমিন পপির প্রদর্শিত পোশাকের মধ্যে। নান্দনিক ও বর্ণিলভাবে উপস’াপন করা হয়েছে প্রতিটি পোশাকে।
আবার ডিজাইনার লুৎফা সানজিদার কাজের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে প্রকৃতির নিদারুণ উপসি’তি। এ প্রদর্শনীর ঈদ সংগ্রহ প্রদর্শিত পোশাকগুলোর মধ্যে যার সবগুলোতেই রয়েছে উজ্জ্বল রঙ আর বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। উৎসব মাথায় রেখেই পোশাকগুলো নক্শা করা হয়েছে, আর তাই এই পোশাকে অনেক রঙ আর বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যাবে।
একজন ফ্যাশন উদ্যোক্তা হিসেবে ক্রেতাদের জন্য ভাবনার কথা জানতে চাইলে ডিজাইনার আইভি হাসান বলেন, ক্রেতাদের দেশীয় পোশাকের প্রতি আস’া আমাদের সাহসী করে। ক্রেতাদের এ আস’া ধরে রাখার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। একজন ক্রেতা দেশীয় পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে শুধু একটি পোশাক কিনছে না। এর মধ্যেমে তিনি দেশের গুণী কারুশিল্পী, তাঁতী সূচিকর্ম শিল্পীসহ এর সাথে যুক্ত লাখো মানুষের কর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছেন। আর তা অটুট থাকলে বুটিক শিল্প নিয়ে আমাদের কষ্টের শ্রম সার্থক হবে।
উক্ত প্রদর্শনী ২৭ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।