কক্সবাজারে গা-ঢাকা মাদক ব্যবসায়ীদের

দুই দিনে তিন ইয়াবা ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার

অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ইয়াবা ব্যবসার টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কোন্দলের জের ধরে কক্সবাজারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হচ্ছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকে মাদকের শহর নামে খ্যাত কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফসহ জেলার বিভিন্নস’ানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ইয়াবাসহ নানা মাদক ব্যবসায় জড়িতরা গত কয়েকদিন ধরে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও জেলার অনেক মাদক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
কক্সবাজারে গত দুইদিনে উদ্ধার করা হয়েছে তিন ইয়াবা ব্যবসায়ীর লাশ। এদের বিরুদ্ধে জেলাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ইয়াবার টাকা ভাগাভাগিসহ অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তারা খুন হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ভোরের দিকে কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর ২ নাম্বার ব্রিজ এলাকায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য
আকতার কামালের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে। এই সময় ঘটনাস’ল থেকে ইয়াবা, বন্দুক ও গুলি উদ্ধার করা হয়। আকতার কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবার গডফাদার।
মেরিনড্রাইভ রোডের হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উক্ত এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে তারা একদল পুলিশ নিয়ে এলাকায় যান। এই সময় রাস্তার পাশে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের পাশ থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা, ১টি এলজি ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
স’ানীয়রা মৃতদেহ দেখে সেটি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতার কামালের বলে শনাক্ত করেন। আকতার কামাল উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বড়বোন শামসুন্নাহারের দেবর বলে জানা গেছে। তিনি তালিকাভুক্ত ইয়াবার গডফাদার।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রতিপক্ষের গুলিতে এই ব্যক্তি মারা গেছেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দু’গ্রুপের গোলাগুলিতে দু’জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মহেশখালীতে। অন্যজন কক্সবাজার শহরের আদর্শগ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হয়েছেন কক্সবাজার শহরের আলোচিত ইয়াবা ডন মোহাম্মদ হাসান (৩৫)। শহরের উত্তরণ এলাকাস’ কাটাপাহাড় আস্তানা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হাসান কলাতলী আদর্শগ্রাম এলাকার মৃত খুইল্যা মিয়ার ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন খন্দকার জানান, ইয়াবা ব্যবসার টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের গোলাগুলি খবর পেয়ে ঘটনাস’লে অভিযান চালায় একদল পুলিশ। অভিযানের খবর টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস’ায় ইয়াবা ব্যবসায়ী মো. হাসানের লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস’ল থেকে একটি দেশীয় বন্দুক ও দু’রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, মহেশখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে মোস্তাক আহামদ (৩৭) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়মহেশখালী ইউনিয়নের দেবেঙ্গাপাড়া পাহাড়তলী এলাকা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মোস্তাক আহামদ ওই ইউনিয়নের মুন্সিরডেইল গ্রামের আনোয়ার পাশার ছেলে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ জানান, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দু’গ্রুপের গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের খবর পেয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস’ল থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী মোস্তাকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এসময় চারটি দেশীয় তৈরি বন্দুক এবং সাত রাউন্ড গুলি ও ৩০ রাউন্ড গুলি খোসার উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি জানান, নিহত ইয়াবা ব্যবসায়ী মোস্তাকের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় তিনটি মামলা খুঁজে পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকার মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করার পর থেকে জেলার বিভিন্নস’ানের মাদক ব্যবসায়ীরা গা-ঢাকা দিতে শুরু করে। বিশেষ করে জেলার সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফের ব্যবসায়ীরা অনেকটা এলাকা ছাড়া বলে জানা গেছে।