একাদশ ভর্তি

আবেদন পড়লো ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৯ জনের

১ম পর্যায়ের নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ ১০ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইনে ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ভর্তিতে আবেদন করেছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছে ৯৫ হাজার ৩৯২ জন ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছে ১২ হাজার ৬১৯ জন। আবেদিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে আগামী ১০ জুন প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ মে) ছিল আবেদনের শেষ দিন।
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পরবর্তী প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুল হক বলেন,‘ভর্তি প্রক্রিয়ায় এখন আর নতুন করে আবেদনের সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। এরমধ্যে অনলাইনে করেছে ৯৫ হাজার ৩৯২ জন ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করেছে ১২ হাজার ৬১৯ জন। আগামী ১০ জুন এসব শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১ম পর্যায়ের মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যে কলেজের ভর্তির জন্য মনোনীত হবে ১১ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে সেসব কলেজে নিশ্চায়ন করবে।’
কিন’ যারা এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুল হক বলেন, ‘পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফলাফল পরিবর্তন হবে তারা আগামী ৫ ও ৬ জুন আবেদনের পছন্দের তালিকা পরিবর্তনের সুযোগ পাবে।’
ভর্তির আবেদনে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে কোন কলেজগুলোতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবেই সরকারি কলেজগুলোতে পছন্দের তালিকা বেশি ছিল। প্রথম পছন্দ হিসেবে চট্টগ্রাম কলেজকে বেছে নিয়েছে ৬ হাজার ৫৫৫ জন, সিটি কলেজকে ৫ হাজার ৯১৪ জন, সরকারি মহসিন কলেজকে ৩ হাজার ৬১৩ জন, সরকারি মহিলা কলেজকে ২ হাজার ১৪২ জন, সরকারি কমার্স কলেজকে ১ হাজার ১৯ জন ও বাকলিয়া সরকারি কলেজকে ৪১০ জন। তবে দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে সরকারি মহিলা কলেজকে ৮ হাজার ৪৩২ জন, সরকারি সিটি কলেজকে ৬ হাজার ৮৫০ জন বেছে নিয়েছে। তৃতীয় পছন্দ হিসেবে সরকারি সিটি সিটি কলেজকে ৯ হাজার ২৪৯ জন বেছে নিয়েছে।
মনোনীতদের তালিকা কিভাবে নির্ধারণ করা হবে জানতে চাইলে কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুল হক, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ও পছন্দ ক্রম অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ের মনোনীতদের তালিকা তৈরি করা হবে। পরবর্তীতে তালিকা প্রকাশের পর ভর্তির নিশ্চায়ন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেশন হয়ে যাবে আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে। আর কোনো কলেজের আসনের শতভাগ ভর্তি হবে মেধার ভিত্তিতে। কোটায় ভর্তি হবে মোট আসনের বাইরে থেকে।’
এবারের ভর্তিতে একজন শিক্ষার্থী অনলাইনে সর্বনিম্ন ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদনের সুযোগ পেয়েছে। অপরদিকে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে একটি কলেজে আবেদনের সুযোগ পেয়েছে। কলেজের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিশ্চায়নের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাইগ্রেশন হয়ে যাবে।
তবে যারা এখনো কলেজ ভর্তিতে আবেদন করতে পারেনি তাদের ক্ষেত্রে নির্দেশনা কি জানতে চাইলে বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ১৯ থেকে ২০ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ে আবেদন করতে পারবে। একইসাথে প্রথম পর্যায়ের তালিকায় নাম আসার পরও যেসব শিক্ষার্থী মনোনীত কলেজে নিশ্চয়ান করবে না তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে তাদেরকে আবেদন করতে হবে ১৫০ টাকা দিয়ে।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, গত ১৩ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত আবেদনের পর প্রথম পর্যায়ের নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। ১১ জুন থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে থাকা পিন কোড দিয়ে ভর্তি নিশ্চায়ন করবে। এক্ষেত্রে ১৮৫ টাকা করে দিতে হবে। প্রতি শিক্ষার্থী নিজের টেলিটক মোবাইল, শিওর ক্যাশ বা রকেটের মাধ্যমে এই টাকা পরিশোধ করে নিশ্চিত করতে পারবে। প্রথম পর্যায়ে যারা ভর্তি নিশ্চায়ন করবে না তাদের আবেদন বাতিল হয়ে যাবে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনরায় আবেদন করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। প্রথম পর্যায়ের মাইগ্রেশনের ফলাফল ও দ্বিতীয় পর্যায়ে মনোনীতদের তালিকা প্রকাশিত হবে ২১ জুন। দ্বিতীয় পর্যায়ে মনোনীতদের নিশ্চায়নের জন্য ২২ ও ২৩ জুন সময় দেয়া হয়েছে। ২৪ জুন রাখা হয়েছে তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের জন্য। আর দ্বিতীয় পর্যায়ে ভর্তিকৃতদের মাইগ্রেশনের ফলাফল ও তৃতীয় পর্যায়ের মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ জুন। তৃতীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তির নিশ্চায়ন করবে ২৬ জুন। আর ২৭ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে চলবে কলেজগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম।
উল্লেখ্য, এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র কলেজে ভর্তি হওয়ার সময় ছাড়া এর আগে কলেজে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।