‘ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলি’

এমপি বদির বেয়াই নিহত

সুপ্রভাত রিপোর্ট

কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ সড়ক থেকে আকতার কামাল (৪১) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, গতকাল শুক্রবার ভোরে মেরিনড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর ২ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। আকতার কামাল উখিয়া টেকনাফের এমপি আবদুর রহমান বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর এবং টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, ভোরে দরিয়ানগর ব্রিজ এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ টহলে যায়। এসময় সেখানে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পায়।
লাশের পাশে এক হাজার ইয়াবা, ১টি এলজি ও ৪ রাউন্ড গুলি পড়েছিল। পরে স’ানীয়রা এসে লাশটি এমপি বদির বেয়াই আকতার কামালের বলে শনাক্ত করেন। এ পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা, প্রতিপক্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে আকতার কামালের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাস’লে পড়ে থাকা ইয়াবা, বন্দুক ও গুলিগুলো উদ্ধার করেছে পুলিশ। আকতার কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা গডফাদার বলেও জানান পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম।
বিডিনিউজ সূত্রে জানা গেছে, মাদক পাচারে মদদ দেওয়ার অভিযোগে ২০১৪-১৫ সালে সরকারের এক গোয়েন্দা সংস’ার প্রতিবেদনে বদির নামও এসেছিল। তবে বদি বরাবরই মাদক পাচারে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলতি মাসের শুরুতে সারা দেশে যে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছে তাতে প্রতি রাতেই বহু মানুষ কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে।
কোথাও কোথাও লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছে, ওই মৃত্যু ঘটেছে মাদক কারবারিদের নিজেদের গণ্ডগোলে।
এ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে ঘুরেফিরে আসছে এমপি বদির নাম। অভিযোগ থাকার পরও দলীয় বিবেচনায় তাকে ছাড় দেওয়ার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। আর জাতীয় পার্টির নেতা এইচ এম এরশাদ সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘মাদক সম্রাট তো সংসদেই আছে। তাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝোলান।’
বিভিন্ন মহল থেকে বদির বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পরও কেন সরকার ব্যবস’া নিচ্ছে না- সেই প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ ছাড়া তো কাউকে ধরা যায় না, একজন এমপিকে চট করে ধরা যায় না। প্রমাণ হলে সে যদি অপরাধী হয় অবশ্যই তার শাস্তি হবে।’
এদিকে অর্থসূচক এক খবরে জানায়, এক সাক্ষাতকারে এমপি বদি বলেন, সকালে রামুতে মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলিতে নিহত আকতার কামাল তার বেয়াই নয়। তার সঙ্গে কোনোপ্রকার সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, উনি আমার বেয়াই না। কিছু না জেনেই মিডিয়ায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আমার বড় বোনের নাম শামসুন্নাহার ঠিকই। কিন’ তার দেবরের নাম আকতার কামাল নয়, তার দেবরের নাম নুরু। তিনি আরো বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা উখিয়া ও টেকনাফে আমার নামে কারো কাছে কোনো অভিযোগ নেই। আমি সবসময়েই মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস’ান পরিষ্কার করে বলেছি। এমনকি সংসদে দাঁড়িয়েও সে কথা বলেছি। এরপরে আর কোনো কথা থাকে না।