গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ‘মাদকের হাট’

নিজস্ব প্রতিবেদক
Eviction_ Police & Mejistrait_Borishal Coloni (13) copy

মাদক বেচাকেনা ও সেবনের শতাধিক স’াপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে অবশেষে নগরীর ‘মাদকের হাট’ বরিশাল কলোনির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পুলিশ।
গতকাল সিএমপির উপ-কমিশনার এএসএম মোস্তাইন হোসেনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, পুলিশ, রেল কর্মকর্তারা এ অভিযান চালান। এসময় স’ানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উপসি’ত ছিলেন। সকাল ১১টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, ‘বরিশাল কলোনি ও মালি কলোনিতে এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়েছে। মাদক বেচাকেনার স্পট হিসেবে পরিচিত দুটি কলোনির ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১০০ স’াপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। রেলের কোয়াটার ছাড়া বাকি সব অবৈধ স’াপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বরিশাল কলোনি থাকবে পুলিশের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে।’
অভিযানে অংশ নেওয়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভূ-সম্পদ বিভাগের কানুনগো আবদুস সালাম জানান, বরিশাল কলোনিতে বেশ কিছু সংখ্যক রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসা রয়েছে। বরাদ্দ করা এসব বাসার পাশে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পাকা ও অস’ায়ী ঝুপড়ি ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। ১৯৮০ সাল থেকে এসব স’াপনা মাদক বেচাকেনা ও সেবনের আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রেলের কতজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এর একটি তালিকা চেয়েছে পুলিশ। খুব শিগগিরই তৈরি করে একটি তালিকা পুলিশকে দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, গত ১৭ মে দিবাগত রাতে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোশারফ ও হাবিবুর রহমান ওরফে মোটা হাবিব নিহত হন। একদিন পর মো. হানিফ, মো. আব্দুল্লাহ এবং খোকন কুমার দাশ নামে তিন মাদক ব্যবসায়ী বরিশাল কলোনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালান। কিন’ পুলিশের অভিযানে ভেস্তে যায় তাদের পরিকল্পনা। অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ওই তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সদরঘাট থানা পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ইতোপূর্বে অভিযান চালাতে গিয়ে একাধিকবার মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হয় পুলিশ। একসময় মাদক সিন্ডিকেটের সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করত। গত ১৮ মে রাতে অভিযানে গিয়ে তাদের হেফাজত থেকে গুলি লোড করা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে বাধা দিতেই গ্রেফতার হওয়া তিন মাদক ব্যবসায়ী অস্ত্র রেখেছিল। বরিশাল কলোনিতে দিনে ১ লাখের বেশি ইয়াবা বিক্রি হতো বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আবদুর রউফ। পুলিশ সূত্র জানায়, বরিশাল কলোনির মাদক সম্রাট বলে পরিচিতি পাওয়া ফারুক ওরফে বাইট্টা ফারুক ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর আইস ফ্যাক্টরি রোডে র্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়। ফারুকের মাদক সিন্ডিকেটে সহযোগী ছিল ইউসুফ, ছালামত, খসরু এবং তার ভাই শুক্কুর।
‘ক্রসফায়ারে’ ফারুকের মৃত্যুর জন্য ইউসুফ ও ছালামতকে সন্দেহ করে আসছেন তার ভাই শুক্কুর। এক পর্যায়ে শুক্কুর চলে যান গ্রামের বাড়ি পটিয়ার নন্দেরখীলে। গ্রামে গেলেও বন্ধ হয়নি তার ইয়াবা ব্যবসা। টেকনাফ থেকে সড়কপথে পটিয়ায় ইয়াবার চালান আনে শুক্কুর। এদিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যাওয়ার পর ফারুকের টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যান খসরু। এরপর বরিশাল কলোনির নিয়ন্ত্রণ নেয় ছালামত ও ইউসুফ।