পদ্মা সেতুর বাড়লো সময় ও ব্যয়

সুপ্রভাত ডেস্ক

পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের মূল কাজ শুরু না হলেও ব্যয় বেড়েছে ৪ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। ব্যয় বাড়ার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। ওদিকে চীনের ঋণ সহায়তা কমেছে। জানুয়ারি ২০১৬ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও সময় বাড়ছে জুন ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ফলে সময়ও বাড়ছে দুই বছর।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মূল বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটা টাকা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকাল আরো দুই বছর বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আসবে ১৮ হাজার ২২১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এর আগে এর পরিমাণ ছিলো ১০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে জিওবি থেকে বরাদ্দ বাড়ল ৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে মোট ব্যয়ের মধ্যে ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা চীনা সরকারের জি টু জি পদ্ধতিতে আসবে। মূল প্রকল্প বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে এ প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা কমলো ৩ হাজার ৭১৩ কোটি টাকা। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই চীনের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। খবর অর্থসূচক এর।
বৈদেশিক সহায়তা কমার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ভূমি অধিগ্রহণ। মূল দামের চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে এই ভূমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে চীন রাজি হয়নি। তাই দেশীয় অর্থেই এই ব্যয় মেটানো হচ্ছে।
জানা গেছে, মূল কাজ শুরু হয়নি। শুধু ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজ চলছে। এর ফলেই বাড়ছে সময় ও ব্যয়। রাজধানী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ১৬৯ কিলোমিটার নতুন রেলপথটি যশোরে মিলিত হবে। এর নির্মাণে ৪ হাজার ২৬৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩ মে পদ্মা সেতু হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে নতুন রেলওয়ে স’াপনের লক্ষ্যে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছিল একনেক সভায়। প্রকল্পের জন্য ৮৬ একর অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৩ হাজার ৩৭১ কোটি ৬৬ লাখ ব্যয় বাড়ছে। এছাড়া বেতন ও ভাতা খাতে ১২ কোটি ৯৮ লাখ, প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের অন্যান্য ইনপুটের ব্যয় ১৩১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং একই সঙ্গে রেলপথ নির্মাণ খাতে ৯৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ছে।