আবিষ্কারের গল্প!

সংগৃহীত
biggan-o-gonit-home

তোমার প্রত্যেকদিনের সময় বাঁচাতে আর কাজগুলোকে সহজ করতে কত শত জিনিসই না রয়েছে চারপাশে। সব কাজকে সহজ করে দেওয়া এই ছোট্ট ছোট্ট জিনিসগুলোর জন্ম কিন’ এত সহজে হয়নি। এই অদ্ভুত অথচ কাজের জিনিসগুলো কী করে তৈরি হল সেটাই আজকে জানাব তোমাদের।
১. পোস্ট ইট নোটস বা হালকা আঠা-ওয়ালা কাগজ
সামনের মাসে বন্ধুর জন্মদিন? মনে রাখার জন্য এখন তো খুব সহজেই কাগজে লিখে রাখতে পারছ। যে কাগজের পিঠে আবার আঠাও লাগান থাকে। তাতে জন্মদিনের তারিখ আর বন্ধুর নাম লিখে লাগিয়ে দিচ্ছ পড়ার টেবিলে। কিন’ তুমি কি জান, এমন দরকারি একটা জিনিস ভুল করে বানিয়ে ফেলেছিলেন এক আবিষ্কারক? ১৯৬৮ সালে ড. স্পেন্সার সিলভার খুব মনোযোগ দিয়ে শক্তিশালী একটি আঠা বানানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন’ শেষমেষ সবটা গুবলেট হয়ে গেল। শক্ত আঠা তো বানানো গেলই না, বরং তৈরি হল একটা হালকা আঠালো রকমের জিনিস। যেটা কখনও শুকিয়ে যায় না। বাজে জিনিস ভেবে ওটাকে ফেলেই দিয়েছিলেন সিলভার। কিন’ তার কোনো কাজে না লাগলে কী হবে! সিলভারের সঙ্গেই কাজ করতেন ড. আর্ট ফ্রাই। কয়েকদিন ধরে বেশ সমস্যায় ছিলেন তিনি। তার প্রয়োজনীয় বুকমার্ক বা বইয়ের চিহ্নগুলো বারবার কেবল নিচে পড়ে যাচ্ছিল। সিলভারের সেই হালকা আঠালো জিনিসটা বেশ কাজে লেগে গেল আর্ট ফ্রাইয়ের। আর তারপর থেকেই ধীরে ধীরে সবাই দরকারি ব্যাপারগুলো মনে রাখতে পোস্ট ইট নোটসের সাহায্য নিতে শুরু করল।
২. কাপড় ধোয়ার সাবান-
প্রতিদিন যে সাবানগুলো দিয়ে তোমার কাপড় ধোয়া হয়, সেগুলোর জন্মের পেছনেও আছে মজার একটি গল্প। অনেক অনেক বছর আগে রোমান মেয়েরা যখন ‘টিবার’ নদীর তীরে কাপড় ধুতে যেত, তখন ওরা প্রায়ই একধরনের পদার্থ দেখতে পেত। পদার্থগুলো রোজ নদীর পানিতে ভাসত। আসলে জিনিসগুলো ছিল পশুর গায়ের চর্বি আর তেল। টিবার নদীতে তখন মৃত পশুর গায়ের চর্বি ফেলা হত। একদিন ঐ জমাট বাঁধা জিনিসগুলো ভেসে এসে লেগে গেল একজনের কাপড়ে। সেটাকে কেঁচে ধুয়ে সে দেখল, আরে বাহ্! বেশ সাফ হয়েছে তো! এ খবর চলে গেল অন্য মেয়েদের কাছেও। তারাও সেই চর্বি দিয়ে কাপড় ধুয়ে দেখল। সত্যিই তো! ওটা দিয়ে বেশ ভালো পরিষ্কারই হয় কাপড়! সেই থেকে সাবানের ব্যবহার শুরু হয়। অবশ্য অনেকে বলে থাকে ব্যাবিলনীয়রা প্রথম সাবান বানিয়েছিল।
৩. পেপার ক্লিপ-
স্যামুয়েল ফে বেশ অসুবিধায় পড়ে গিয়েছিলেন নিজের টিকিটগুলোকে নিয়ে। কাপড়ের সঙ্গে আটকে রাখতে চাচ্ছিলেন তিনি ওগুলোকে। কিন’ তা কী করে সম্ভব? পিন দিয়ে কাপড়ে টিকিট লাগালে কাপড় যে ছিঁড়ে যাবে! অনেক চিন্তা করে একটা অদ্ভুত জিনিস বানালেন তিনি। কতগুলো তার একসঙ্গে জুড়ে এক্স আকারের জিনিস বানালেন, যা টিকেটগুলোকে আটকে রাখতে পারে। তিনি দেখলেন, কাপড়ও ছিঁড়ছে না এ ক্লিপ দিয়ে আটকালে। এত সহজেই কাপড়ের সঙ্গে কাগজ লাগানোর প্রযুক্তি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। এ ক্লিপের নামডাক এতই ছড়িয়ে যায় যে ১৮৬৭ সালের ২৩ এপ্রিল পেপার ক্লিপের আবিষ্কারক হিসেবে স্যামুয়েল ফে পুরস্কারই পেয়ে বসেন। পরে আরও অনেক শক্তিশালী ও মজবুত বানান হয় ক্লিপগুলো। নাম দেওয়া হয় জেমস ক্লিপ।
৪. পুলি-
জ্যোতির্বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গণিতবিদ- কী বলে যে ডাকি তাকে! জগতের বিষয় নিয়ে তিনি একাই এত্ত এত্ত মজার মজার আবিষ্কার করে গেছেন। সেকি! তুমি কী ভাবনায় পড়ে গেলে? বুঝতে পারছ না কার কথা বলা হচ্ছে? আরে, তিনি আর কেউ নন। স্বয়ং আর্কিমিডিস। জানই তো, বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে উনি কাজ করেননি। তবে আর্কিমিডিসের সাবচেয়ে মজার আবিষ্কার হিসেবে ধরা হয় কিন’ পুলিকে। পুলির সাহায্যে অনেক ভারী জিনিসও খুব সহজেই ওঠানো যায়। আর এমন মজার যন্ত্রের আবিষ্কারক আর্কিমিডিসও কিন’ কম মজার মানুষ নন। নিজের এই পুলি নিয়েই তিনি একবার বলেছিলেন, পুরো পৃথিবীকেও তিনি ওঠাতে পারতেন এতে করে। যদি তাকে ঠিকঠাক সোজাভাবে দাঁড়ানোর একটা জায়গা দিতে পারে কেউ।
৫.জিপার-
একটা সময়ে জিপার বলে কিছু ছিল না। সব জামা-কাপড়ে খালি বোতামই ব্যবহার করা হত। চারপাশের সব কাপড়ের দোকানদার বোতাম বানাতে বানাতে ক্লান্ত। ঠিক এমন সময় গিডিওন সানব্যাক বলে একজন মানুষ জিপার বানিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। নিমিষে বেকার হয়ে গেল সব বোতাম কারিগরেরা। যদিও ১৫০ বছর আগে এলিয়াস হাউই নামের একজনও ঠিক জিপারের মতো একটা জিনিসই তৈরি করেছিলেন। তবে তার সেই জিপারকে সবার কাছে পরিচিত ও ব্যবহার উপযোগী করে তুলেছিল সানব্যাকই।
৬. ভেলক্রো-
জর্জ ডি মেসটাল তার পোষা কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন নিজের দেশ সুইজারল্যান্ডের এক মাঠে। মাঠ থেকে ফেরার পর জর্জ দেখতে পেলেন তার কুকুরের গায়ে কেমন একধরনের ছোট ছোট জিনিস লেগে আছে। অনেক চেষ্টা করেও সেগুলোকে কুকুরের লোম থেকে ছাড়াতে পারলেন না তিনি। অবশেষে তিনি মাইক্রোস্কোপ দিয়ে ভালো করে দেখলেন জিনিসগুলোকে। আরে! অবাক হয়ে গেলেন জর্জ। এ তো এক ধরনের গাছের অংশ। কিন’ কীভাবে কুকুরের গায়ে এত শক্ত করে লেগে আছে ওরা? অনেক দেখেশুনে বুঝতে পারলেন জর্জ, ঐ গাছের অংশগুলোর গায়ে খানিকটা বাঁকানো কিছু অংশ আছে, যেগুলোর সাহায্যে সেগুলো আটকে আছে কুকুরের লোমে। সেই থেকে ওটা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু হল জর্জের। ১০ বছর পরে অবশেষে ভেলক্রো নামের জিনিসটা বানিয়েই ফেললেন তিনি। আর এখন? চারপাশে তাকিয়ে দেখ। তোমার ব্যাগের চেইন থেকে শুরু করে সবকিছুতেই লাগান আছে ভেলক্রো।