কক্সবাজার

দ্রব্যমূল্যের আগুনে ক্রেতার নাভিশ্বাস

পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা

দীপন বিশ্বাস, কক্সবাজার
mudi-dokan-953697916

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পর্যটন শহর কক্সবাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, রমজান সমাগত, তাই একদিকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন মসজিদে খতমে তারাবিহসহ নানান ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের প্রস’ুতি নিচ্ছে অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা এ মাসকে ঘিরে বেশ কিছু নিত্যপন্যের দাম বাড়ানোর তৎপরতা শুরু করেছে। এর মধ্যে বেড়েছে বেশ কিছু পণ্যের দাম এবং সামনের দিনগুলোতে আরো দাম বাড়তে পারে বলে জানান কক্সবাজারের স’ানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছে ঢাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে এখানেও দাম বাড়বে।কক্সবাজারের পাইকারি বাজারের বেশ ক’টি পাইকারি দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল ২৮ টাকা সেই পেঁয়াজ বর্তমানে ৩৫ টাকা, চিনির দাম সপ্তাহ দু’একের মধ্যে বেড়েছে ১০ টাকার মত। সে হিসেবে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকা। অবশ্য ছোলা এখনো ৭২/৭৫ টাকা এবং খেসারি ৪০ টাকার মধ্যে আছে। তবে যে কোন মুহুর্তে দাম বাড়তে পারে বলে জানান স’ানীয় এক ব্যবসায়ী। শহরের বাহারছড়া বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, অনেকে ইতিমধ্যে রোজার বাজার করতে শরু করেছে। এ সময় ক্রেতা দুর্নীতি দমন কমিশন কক্সবাজারের পিপি এ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম বলেন, রোজার দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। তাই আগেভাগেই রোজার বাজার করে ফেলছি। আমি পেঁয়াজ,আদা, রসুন, চনা, খেসারি, চিনিসহ অনেক কিছু কিনেছি আর বাকিগুলোও দু’এক দিনের মধ্যে কিনবো। এ সময় তরকারি বাজারে গিয়ে দেখা গেছে রমজান মাসের সবচেয়ে বেশি চাহিদা পণ্য কাঁচা মরিচের দাম এখনো হাতের নাগালে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, তবে খুব দ্রুত দাম বাড়বে বলে জানান বিক্রেতা নবি আলম। তার মতে, আমরা রামু, গর্জনিয়াসহ অনেক জায়গা থেকে মরিচসহ তরকারি কিনে এনে বাজারে বিক্রি করি। তবে শুনেছি খুব দ্রুত কাচা মরিচসহ অনেক তরকারির দাম বাড়তে পারে। অবশ্য দাম বাড়ার আরো কারণ আছে। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। তাই কৃষকের কাছে যেই মরিচ বা তরকারি আছে তাও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই কৃষকরা তড়িঘড়ি করে ফলন ঘরে তুলবে। আর বাজারে সংকট দেখা যেতে পারে। তাই পণ্যের দাম বাড়তে পারে। সূত্র জানায়, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে প্রশাসনসহ অনেকে স’ানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে অভিযোগ করে। আসলে কোন স’ানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে নিত্যপণ্যের দাম উঠানামা করার কোন সুযোগ নেই। ঢাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা যতক্ষণ দাম না বাড়াবে ততক্ষণ সারা দেশে কোথাও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে না। অবশ্য রজমান মাসে সড়কে যানজট বাড়ে। ফলে পণ্য আনা নেওয়ার খরচও বেড়ে যায়। এছাড়া মজুরি থেকে শুরু করে সবকিছুর দামও বাড়তি থাকে। সংগত নানা কারণে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা।এরই মধ্যে অনেক পণ্য কিনতে বাড়তি মূল্য দিচ্ছেন ক্রেতারা। সামনে দাম আরো বাড়বে বলে জানায় ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, রমজান মাসে যাতে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকে সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স’ানয়ি বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। এ জন্য ইতোমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনসহ নানা বাস্তবমুখী কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।