টেকনাফে যত্রতত্র রোহিঙ্গা বসতি

স্থানীয়দের সাথে সংঘাতের শঙ্কা

জিয়াবুল হক, টেকনাফ

মায়ানমার রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশ সরকারের অনুকম্পায় আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সম্প্রতি লোকালয়ের যত্রতত্র বসত-বাড়ি তৈরী করছে। এদের কারণে জনবসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ায় স’ানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন এনজিও সংস’া ও ব্যবসায়ী মনোভাবাপন্ন কতিপয় ব্যক্তিদের কারণে নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে গিয়ে রোহিঙ্গারা বসত-বাড়ি তৈরির সুযোগ পাচ্ছে।
মায়ানমার থেকে গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত আসা ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা, নয়াপাড়া, লেদা, আলীখালী, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং, চাকমার কূল, লম্বাবিল ও বাহার ছড়ায় প্রাথমিক ভাবে অস’ায়ী ক্যাম্পে সরকার স’ান দেয়। সম্প্রতি কতিপয় সুবিধাভোগী মহল ও এনজিও সংস’ার সহায়তায় দক্ষিণ মোচনী, উত্তর মোচনী, উত্তর লেদা জুনিয়র হাইস্কুল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘেঁষে লোকালয়ে নতুন করে রোহিঙ্গা বসতি গড়ে উঠছে। এতে স’ানীয় জনসাধারণ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার আশংকা দানা বাঁধছে।
লেদা জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প বসানোর ফলে পায়খানার দূর্গন্ধ, তাদের যথেচ্ছা আচরণ শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা ব্যাহত করছে। তাই দ্রুত এসব ক্যাম্প উচ্ছেদ করা জরুরি হয়ে পড়ছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোহাম্মদ আলী বলেন, রোহিঙ্গারা কোন সময়েই স’ানীয়দের জন্য শুভ নই। বিশেষ সুবিধাভোগী মহল রোহিঙ্গা বাণিজ্যের জন্য যেখানে-সেখানে ক্যাম্প বসিয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এসব উচ্ছেদ করা দরকার।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান জানান, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জন্য ১টি নিবন্ধিত ও ৭টি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প আছে। নতুন ক্যাম্প বসানোর বিষয়টি জানা ছিলনা। উর্ধ্বতন মহলকে অবহিত করার পর উচ্ছেদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।