তালশাঁসে তৃপ্তি মেটাচ্ছে নগরবাসী

সিফায়াত উল্লাহ

‘ঐ দেখা যায় তালগাছ, ঐ আমাদের গাঁ, ঐখানেতে বাস করে কানা বগির ছা।’ কবিতাটি পড়ে মনে হয় তালগাছ শুধু গাঁয়েই আছে। ইট-কাঠের এই যান্ত্রিক শহরে তালগাছ কল্পনা করা না গেলেও এই নগরের মানুষ ঠিকই গাছটির ফল তালশাঁস না খেয়ে থাকেন না। সুস্বাদু এই ফলটি গ্রামগঞ্জ হয়ে এখন শহরের অলিগলিতে মিলছে।
দিনের বেলায় রোদের খরতাপ। মাঝেমধ্যে ঝড়-তুফানও। প্রকৃতি নিয়মিত বিভিন্ন রূপে দেখা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রচণ্ড গরমে টিকে থাকতে নগরবাসীর খাদ্যতালিকায় যোগ হয়েছে তরমুজ, বেল, তালশাঁস জাতীয় খাবার। এর মধ্যে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় এসব ফল বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। তবে স্বাদের কারণে তালশাঁস সবার কাছেই খুব প্রিয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে স্টেশন রোডে গিয়ে দেখা যায়, তালশাঁস কিনতে মানুষ ভিড় জমাচ্ছে। কয়েক জায়গায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে। বিক্রেতা কেটে দিলে কেউ কেউ দাঁড়িয়েই খাচ্ছেন, আবার কেউ-বা পরিবারের জন্য নিয়ে যাচ্ছেন ঘরে।
গ্রীষ্মকালে তালশাঁসের কদর বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন কদমতলী এলাকার এক তাল ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, গরম বাড়ছে। সাথে তালশাঁসের চাহিদাও বেড়েছে। অন্যসব ফল পাকাতে কিংবা সংরক্ষণ করতে বিষাক্ত রসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হলেও তালশাঁসে তার দরকার হয় না। তাই খরচও তেমন পড়ে না। কম দামে বিক্রিও করা যায়।
কুমিল্লা থেকে তালগুলো আনা হয়েছে জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিটি তাল আকারভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে তালশাঁসের দাম একটু বেশি। সরবরাহ বাড়লে দাম আরেকটু কমবে। তবে খুব দ্রুত তালের মৌসুম শেষ হয়ে যায়।
জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে তাল চট্টগ্রাম শহরে আসে। এ কাজে জড়িত আছে প্রায় দুইশ ব্যবসায়ী। এরপর এখান থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গার ব্যবসায়ীরা পাইকারি দামে তালশাঁস কিনে নিয়ে যায়। এছাড়াও কিছু ব্যবসায়ী নগরীর বিভিন্ন জায়গায় তালশাঁস খুচরায়ও বিক্রি করে।