হাত-পায়ে ঝিঁঝি ধরে কেন?

সম্পাদকীয়

অনেকক্ষণ পা ভাঁজ করে বসে থাকলে বা কখনো মাথার নিচে হাত রেখে ঘুমালে পা বা হাতে ঝিঁঝি লাগে। হাত-পায়ে মনে হয় যেন কেউ আলপিন ফোটাচ্ছে। ইংরেজিতে একে বলে ‘পিনস অ্যান্ড নিডলস’। রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় বলেই এ অবস’া।
রক্ত হলো শরীরের প্রাণ। রক্ত প্রবাহের জন্য সারা শরীরে শিরা-উপশিরা ছড়িয়ে আছে। হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনীর মাধ্যমে সারা শরীরের সেলগুলোতে অক্সিজেন, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় হরমোন পরিবহন করে নিয়ে যায়। এই সব সেল তার সঞ্চিত জ্বালানি অক্সিজেনের সাহায্যে দহন করে শক্তি উৎপাদন করে যা মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কাজে ব্যয় করে।
এই শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য রক্ত দ্বারা পরিবাহিত হয়ে শিরা-উপশিরার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ফিরে আসে। এটাই হলো আসলে জীবনপ্রবাহ।
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের সারা শরীরের প্রায় পাঁচ লিটার (পাঁচ কোয়ার্ট) রক্ত প্রতি মিনিটে একবার সারা শরীর পরিভ্রমণ করে আসে। কোনো কারণে হাত, পা বা অন্য কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে শরীরে অংশবিশেষ রক্ত প্রবাহ পায় না।
ফলে ওই অংশগুলো অবশ হয়ে আসে। পরে রক্ত প্রবাহ শুরু হলে অনুভূতি ফিরে আসতে শুরু করে। সেলগুলোতে এই প্রাণস্পন্দন ফিরে পাওয়ার সন্ধিক্ষণে আলপিনের খোঁচা খাওয়ার মতো অনুভূতির সৃষ্টি হয়। একেই বলা হয় ঝিঁঝি ধরা।
শরীরের কোথাও কেটেছিঁড়ে গেলে দড়ি দিয়ে বাঁধ দিয়ে আঘাতস’লে রক্তপ্রবাহ স্বল্প সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে আধা ঘণ্টা পরপর বন্ধন শিথিল করতে হয় এবং কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে একটানা দুই ঘণ্টার বেশি রক্ত চলাচল বন্ধ রাখা উচিত নয়। তাহলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।