বাজারে নকল ওষুধ প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে

সম্পাদকীয়

অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য যেন দেশটি স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। এত নকল ও ভেজাল পণ্যের ভিড়ে আসল পণ্য চিহ্নিত করাও এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বাজারে অ্যাজমা রোগের ট্যাবলেট এমনভাবে নকল করা হয়েছে যে, আসল ওষুধ প্রস’তকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাও আসল-নকল চিহ্নিত করতে পারছেন না।
গত সোমবার নগরীর অলংকার মোড়ে অবসি’ত ইউনাইটেড ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এক ভুক্তভোগী রোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। দোকান থেকে অ্যাজমা রোগের ট্যাবলেট নকল মোনাস-১০ উদ্ধার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের সময় উপসি’ত ছিলেন মোনাস-১০ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। নকল ওষুধ বিক্রির দায়ে ইউনাইটেড ফার্মেসির স্বত্বাধিকারীকে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বাজারে নকল ওষুধ বিক্রি নতুন নয়। যতবারই অভিযান পরিচালনা করা হয় ততবারই নকল ওষুধ ধরা পড়ে। নগরীতে পাইকারি ওষুধের বড় বাজার হাজারী গলি। এখানেই নকল ওষুধ সরবরাহের একটি বড় সিন্ডিকেট আছে বলে অভিযোগ আছে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে হাজারী গলিতে অভিযান পরিচালনা করে নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এর দায়ে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস’াও গ্রহণ করা হয়েছে। এক সময় হাজারী গলির ওষুধ ব্যবসায়ীরা সরকারি অভিযানের বিরুদ্ধে ধর্মঘট পালন করেছে। ফলে অভিযান স’গিত করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
নকল, ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযানকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং সে সাথে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার জন্য দাবিও জানাই। তবে সে সঙ্গে এও উল্লেখ করতে চাই, যে, নকল পণ্য তা যাই হোক তা বিক্রি ও দোকানে রাখা আইনত দণ্ডনীয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এখতিয়ার অনুযায়ী শাস্তি প্রদান করে থাকেন। তবে সে শাস্তি যথেষ্ট নয় বলে মনে করি আমরা। ওষুধের মতো জীবন রক্ষাকারী পণ্যের ভেজাল হবে এবং নির্বিঘ্নে বিক্রি হবে তা মেনে নেওয়া যায় না। এবং এই নকল ওষুধ বিক্রির শাস্তি শুধুমাত্র ১ মাসের কারাবাস যথেষ্ট বলেও মনে হয় না।
এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা পালন করা উচিত। নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে সাজা আরও কঠোর হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে না পারে তার ব্যবস’া করা উচিত। মানুষের জীবন ও স্বাস’্য নিয়ে হেলাফেলা করা যায় না। তাই আইনের কঠোর প্রয়োগ দরকার।
আগামীকাল থেকে শুরু হবে রমজান মাস। এই মাসকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা অধিক সক্রিয় হয়ে উঠবে। ফলে এই সময় প্রশাসনকেও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে দেশের বিপণন ব্যবস’াকে। সে সাথে দোষীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার উদ্যোগও নিতে হবে।