মানসম্মত শিক্ষার পথে বাধা, প্রতিকারের উপায়

শামসুদ্দীন শিশির
Samsur Uddin Sisir

শিক্ষা নিয়ে প্রচুর কথা চলছে বেশ কয়েক বছর থেকে। তৃণমূল থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত সকলের মুখে শিক্ষা শব্দটি বহুবার উচ্চারিত হয়। হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেলে একথা বলতেও শোনা যায় আগের দিনের পড়ালেখা এখন আর আমাদের দেশে হচ্ছে না। কিন’ কেন হচ্ছে না তা কেউ তলিয়ে দেখছেন না। হা হুতাশ করেই সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক বা আলোচনা সভা শেষ হচ্ছে। এটা করতে হবে, সেটা করতে হবে, ভূমিকার মধ্যেই শেষ, উপসংহার কেউ টানেন না।
মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতির জন্য প্রথমে দায়ী শিক্ষকরা। কারণ তাঁরা পেশাদারিত্ব আনতে পারেননি। সবাই না, শতকরা আশিজন। মাত্র বিশভাগ কমিটেড শিক্ষক নিয়ে আমাদের শিক্ষা কোন রকমে চলছে। বাকি আশিভাগ চাকরি করেন। শিক্ষকতা এবং চাকরি দুটো ভিন্ন বিষয়। যাঁরা নিজেদের প্রাণ দিয়ে খেটে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন শ্রেণিকক্ষই তাঁর সকল ভালোবাসার স’ান, তাঁরাই প্রকৃত শিক্ষক। একথাও মনে রাখতে হবে প্রকৃত শিক্ষকদের মৃত্যু নেই।
কেন বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পাঠদানে আন্তরিক নন কারণ তারা বিভিন্ন উপায়ে চাকরি পেয়েছেন। প্রথম উপায়: স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন যারা বাঁশ বেতের যোগান দিয়েছেন তারা পরবর্তীতে স্কুলের জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। নকলের বদৌলতে ডিগ্রি পাস করে শিক্ষক হয়েছেন, পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের প্রধানও হয়েছেন কিন’ লেখাপড়ার যে ভিতের উপর দাঁড়িয়ে প্রকৃত শিক্ষক হওয়ার কথা ছিল তা তিনি করেননি। দ্বিতীয় উপায়: আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা তাদের মতাদর্শী ছেলেমেয়েদের শিক্ষকতায় নিয়োজিত করেছেন। কতটা জানেন, তা বিচার না করেই। এটা সকল রাজনৈতিক সরকারের সময়ে হয়েছে। এতে করে মানসম্মত শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাননি। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজনৈতিক পরিচয়ে।
তৃতীয় উপায়: আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অসাধু রাজনীতিবিদ তথাকথিত সমাজপতিরা অর্থের বিনিময়ে শিক্ষকতা করার সুযোগ করে দিয়েছেন বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষককে। যার জের আমরা এখনো শেষ করতে পারছি না। এসব কারণেই পাঠ বিমুখতা। তারই পথ ধরে মানহীন শিক্ষা। এদের মধ্যেই অনেকেই ধীরে ধীরে বড় হয়েছেন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ভাল শিক্ষক না থাকলে ভাল ফলও পাওয়া যাবে না।
প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষকদের উপর যতটা খবরদারি করেন তার এক’শ ভাগের একভাগও ছেলে-মেয়ে অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেন না। ক’জন প্রতিষ্ঠান প্রধান আছেন যে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নাম জানেন, তাদের পিতা-মাতার খবর রাখেন, তাদের বাড়ি-ঘর পরিদর্শন করেছেন বা তাদের আর্থিক অবস’ার কথা জেনে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন বা চেষ্টা করেছেন ইতিবাচক কিছু করার।
ম্যানেজিং কমিটি বহুক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাঁদের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করেন আর শিক্ষকদের মনে করেন তাদের কেনা গোলাম। যেমন মনে আসে তেমন করে ব্যবহার করেন। আবার অনেক ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি বা সদস্যরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মনে করে মাস শেষে, বছর শেষে মোটা অংকের অর্থ- আদায়ের ব্যবস’া করেন। মানহীন গাইড বই, সহায়ক বই নাম দিয়ে প্রকাশকদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে অর্থ আদায় করেন। আবার এ অর্থনিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।
তাঁদের পছন্দ না হলে বা তাঁদের কথামতো না চললে বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার কৌশল বের করেন। একবারও ভাবেন না এ শিক্ষকরা আমাদের এলাকাকে আলোকিত করছেন। আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা শিখিয়ে মানুষ করছেন। বরং শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করতে এতটুকু ভাবেন না।
সম্মানিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বহুবার কথা উঠেছে। আমি সেদিকে যাবো না তার কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ থাকলেই চলবে না। ভেতরের মানুষটি আলোকিত মানুষ হতে হবে। অনেক নিরক্ষর ব্যক্তি আছেন যাদের ব্যবহার সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আবার কেউ কেউ আছেন তাঁরা নামে উচ্চশিক্ষিত প্রকৃত মনের আলো নেই। তাঁরা শিক্ষিত কিন’ সুশিক্ষিত নন।
শিক্ষকদের পাঠ্যপুস্তক বিমুখতা মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিরাট বাধা। কালের প্রবাহে গা ভাসিয়ে শিক্ষকরাও গাইড বইমুখি হয়েছেন। অতি তাড়াতাড়ি বড়লোক অর্থাৎ গাড়িবাড়ির মালিক হওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোচিং সেন্টারে গিয়ে সময় দিচ্ছেন। অসততার পরিচয় দিচ্ছেন প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বলে দিয়ে। এতে আর যাই পান, মনের ভেতরের শ্রদ্ধাটা পাওয়া যায় না। এই শিক্ষার্থীরাই একদিন বড় হলে বুঝবেন শিক্ষকরা তাদের জীবনের কত বড় ক্ষতি করেছেন। পুঁজি নেই তো ব্যবসা নেই।
পড়ালেখা না জানলে প্রতিযোগিতার বাজারে বেঁচে থাকা কঠিন, কোথাও ভর্তি হতে গেলে পাস করছে না। চাকরি ইন্টারভিউতে টিকছে না। তার কারণ মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে তারা পারেনি। পাশের জন্য পড়েছে। নির্দিষ্ট গ্রেড পাওয়ার জন্য পড়েছে। ডাক্তার হওয়ার জন্য পড়েছে। মানুষ হওয়ার জন্য, মানবিক গুণের অধিকারী হওয়ার জন্য, সমাজে গ্রহণযোগ্য মানুষ হওয়ার জন্য পড়েনি। অভিভাবকরাও এর খোঁজ খবর রাখেননি। সে কারণে কান্না, হতাশা, কষ্ট এখন অধিকাংশেরই সঙ্গী। বরং বাবা মা-শিক্ষক অন্যায় কাজে সহযোগিতা করেছে, কোন কোন ক্ষেত্রে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীকে উত্তর বলে দিতে শিক্ষককে বাধ্য করেছে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র যোগাড় করে দিয়েছে। এতে লেখাপড়ার মান কমেছে। শিক্ষার দাম কমেছে। শিক্ষা পণ্যে পরিণত হয়েছে।
শিক্ষা ও শিক্ষকদের নিয়ে গড়ে ওঠা সকল স্তরের শিক্ষা সংগঠনগুলো শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কোন আন্দোলন করেনি। করেছে নিজেদের মর্যাদার জন্য, আর্থিক উন্নয়নের জন্য, চাকুরি পাওয়ার জন্য, বদলির জন্য, পদোন্নতির জন্য; বেমালুম ভুলে গেছেন শিক্ষার মান উন্নয়নের সাথে সাথে তাঁদেরও মর্যাদার উন্নয়ন ঘটবে, সে কথাটি। জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড শিক্ষার্থীদের বয়স ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে বই প্রকাশ করে না। ফলে শিক্ষার্থী বই পড়ে আনন্দ পায় না। তাই তারা বই পড়তে আগ্রহী নয়। পাঠ্যবই না পড়লে তো অবশ্যই কিছু একটা পড়তে হবে। হাতের কাছে গাইড বই, সেটাই শেষ ভরসা। নিজের সমস্ত সৃজনশীলতাকে মুছে ফেলে গাইড বই মুখস’ করে পাস করার জন্য পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষায় পাস করে কিন’ জ্ঞান অর্জন হয় না।
যারা শিক্ষকতা করেন তারাই প্রশ্ন করেন, তাদের অধিকাংশই জানেন না প্রশ্ন কীভাবে করবেন। মানহীন প্রশ্নের উত্তর শ্রীহীন হয়। শিক্ষাও মানসম্মত নয়। পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে (পি.এস.সি, জে.এস.সি, এস.এস.সি) এক স্কুলের শিক্ষার্থী অন্য স্কুলে পরীক্ষায় বসে। দুই স্কুলের মধ্যে বোঝাপড়া থাকে কেউ কোন শিক্ষার্থীকে কিছু বলবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছামতো কথা বলবে, দেখাদেখি করবে, লিখবে, পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করবে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের, সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীর সুনাম বাড়বে। কিন’ প্রকৃত অর্থে মানহীন শিক্ষা অর্জিত হবে। শিক্ষার্থীরা জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনবে।
মানহীন শিক্ষা অর্জনের মধ্য দিয়ে ভাল ফলাফল হয়তো করবে। কিন’ ভরহধষ মড়ধষ এ পৌঁছতে পারবে না। একই চিত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সর্বত্র। কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান ঘরের বিদ্যুৎ, হাট বাজার, ফার্নিচার ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নিজের সম্পদ ও সম্পত্তি মনে করে ব্যবহার করেন। এ প্রসঙ্গে কেউ কিছু বলতে চাইলে গোখরোর মতো ফণা তুলেন। কিন’ তাঁদের মূল দায়িত্ব পাঠদান ও পাঠগ্রহণের কাজটি শিক্ষকরা যথাযথভাবে করছেন কিনা, যথাসময়ে শিক্ষকরা উপসি’ত হচ্ছেন কিনা, তা তদারকি তিনি করছেন না। ফলে মানসম্মত শিক্ষাও পরিণত হচ্ছে সোনার হরিণে।
সকল স্তরের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পাঠদানে আন্তরিকতার অভাব, শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে অনীহা, শিক্ষার্থীদের পাঠে সক্রিয় করতে না পারা ইত্যাদি মানসম্মত শিক্ষার পথে বাধা। এ ছাড়া স্কুল-মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের অসহযোগিতা অন্যতম কারণ। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান যেমন সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বনবিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিজিবি, বাংলাদেশ পুলিশ, পাটকল সংস’া, সার কারখানাসহ অসংখ্য ব্যক্তিমালিকানায় গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ (বি.এড) গ্রহণের জন্য ছুটি প্রদান না করা মানসম্মত শিক্ষার পথে অন্যতম বাধা বলে আমি মনে করি।
এ সকল বাধা দূরীকরণে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে এবং হীন ব্যক্তিস্বার্থ দূর করে জাতীয় উন্নয়নে মনোনিবেশ করতে হবে। দলমতের ঊর্ধ্বে ওঠে শিক্ষকতা পেশাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারসহ দেশের সকল সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা নিতে হবে।
স্কুল-কলেজের শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ’র ব্যবস’া করেছে তেমনি মাদ্রাসাগুলোও এর আওতায় আনতে হবে। অতি অল্পসময়ের মধ্যে সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, সুপার, সহ-সুপার, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ ও সরকারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিবন্ধন পরীক্ষায় কৃতকার্যতার মধ্যে দিয়ে নিয়োগের ব্যবস’া করতে হবে। সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়গুলোতে সাধারণ কলেজের প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের বদলি বন্ধ করতে হবে। নামমাত্র লেখাপড়ায় প্রশিক্ষণ সনদ সংগ্রহ করা থেকে বিরত রাখতে হবে। শিক্ষার সকল স্তরে শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন ব্যক্তিকে পদায়ন করতে হবে। যেমন- মহাপরিচালকের দপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখা, আঞ্চলিক অফিসসমূহ, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাবোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, নায়েম এনসিটিবি, এইচএসটিটি আইবি, এমটিটিআইটিটিসিআইইআসহ সকল উচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ভেন্যুগুলোতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ সময়ের দাবি। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমান নজরদারিতে আনতে হবে। তাহলে শিক্ষার বন্ধুর পথ চলা মসৃণ হবে। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষক নিজে, প্রতিষ্ঠান প্রধান, ম্যানেজিং কমিটি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সকলকে আন্তরিক হতে হবে। একজন শিক্ষক বার বার প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করে প্রশিক্ষণ প্যানেল তৈরি করতে হবে।
জুনিয়র থেকে সিনিয়র অর্থাৎ নিচ থেকে উপরের দিকে ধারাবাহিক ভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষে ইনহাউজ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত প্রশিক্ষণ সহকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন। ইন-হাউজ ট্রেনিং ফলপ্রসূ করার জন্য যাবতীয় সহযোগিতা প্রধান শিক্ষককে করতে হবে।
নতুন বছর শুরুর পূর্বে শিক্ষকদের হাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বই তুলে দিতে হবে। যাতে শিক্ষকরা পূর্ব প্রস’তি নিতে পারেন। কোন অধ্যায়ের সমস্যা থাকলে সহকর্মী বা সংশ্লিষ্ট বিষয় বিশেষজ্ঞের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। অঞ্চলভিত্তিক বা এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাসে একাবার ক্লাস্টার ট্রেনিং এর ব্যবস’া করলে শিক্ষকের পাঠদানের মান বাড়বে ফলে শিক্ষারও মান বাড়বে। শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি বন্ধ করতে হবে। এতে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষকদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তা ছাড়া শিক্ষকদের মূল কাজ আন্তরিকতার সাথে পাঠদান এ কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারলে অনেকটাই করা হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়। পাঠ্যক্রমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচলন থাকলে শিক্ষা পূর্ণতায় মান ও বৃদ্ধি পায়। শিক্ষাবিষয়ক সকল সিদ্ধান্তে তৃণমূল থেকে শিক্ষকের মতামত সংগ্রহ করতে হবে এবং তা যাচাই- বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বা পরামর্শ করার জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে। শিক্ষার সকল স্তরে যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে শিক্ষার উচ্চস্তর পর্যন্ত সনদসর্বস্ব লেখা পড়া বন্ধ করতে হবে। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষার দিকে নজর বেশি দিতে হবে। যাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন বাড়ে।
শিক্ষক প্রশিক্ষণ সেটি প্রাথমিক থেকে একেবারে উচ্চশিক্ষার পর্যায় পর্যন্ত- এই ব্যাপারটিতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। কেননা এই প্রশিক্ষণ থেকে আমাদের মানবসম্পদ তৈরির সত্যিকার ভিতটি পাকাপোক্তভাবে সম্পন্ন করার কাজটি গুরুত্ব পাবে।
শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কাজটি শুরু করতে এখন থেকেই পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনা নেয়া হোক।