চকরিয়া

চিংড়িজোনের জায়গা ফিরিয়ে দিতে আদালতের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিংড়িজোনের ৫ হাজার একশ ১২একর জমি আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রামপুর সমবায় কৃষি উপনিবেশ সমিতিকে ফেরত দিতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। ইতোপুর্বে আদালতের আদেশের পরও জেলা প্রশাসন বিষয়টির আলোকে নির্দেশনা কার্যকর করতে পারেনি। এ অবস’ার কারণে সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করে ফের নতুন একটি রিট মামলা দায়ের করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৭ মে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদ এর দ্বৈত বেঞ্চ মামলার শুনানি শেষে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজার জেএল নম্বর ৪৭ ও আরএস ১০৮৩, ১০৮৪, ১০৮৬, ১১১০, ১১১১ ও ১১২০ দাগের উপরোক্ত জমি দখল ফেরত দিতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদিপক্ষের কৌশলী হাইকোর্টের আইনজীবি এ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অপরদিকে আদালতের আদেশের অনুলিপির কপি সোমবার কঙবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিল করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম লিটন। রামপুর সমিতির নিয়োজিত হাইকোর্টের আইনজীবি রায়হানুল মোস্তাফা বলেন, রামপুর সমবায় কৃষি উপনিবেশ সমিতির মামলার প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত উল্লেখিত জায়গা সমিতিকে ফেরত দিতে জেলা মৎস্য বিভাগ ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের তিন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এ সংক্রান্ত আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ওইসময় আদালত জেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেন। জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে পরপর তিনবার আদেশ দেয়ার পরবর্তী চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টির আলোকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সরকারি আইন কর্মকর্তার (জিপি) মতামত চান। এরই প্রেক্ষিতে জিপি আদালতের আদেশমতে বিষয়টি বাস্তবায়নে মতামতও দেন। আইনজীবি রায়হানুল মোস্তাফা বলেন, জিপি মতামতের পরও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন মৎস্য বিভাগের অবৈধ দখলে থাকা ওই জায়গা রামপুর সমিতিকে দখল ফেরতের ব্যবস’া কার্যকর করতে পারেনি। ফলে বিষয়টির আলোকে বর্ণনা তুলে ধরে চলতি মাসের ৭ তারিখ রামপুর সমিতির সম্পাদক বাদি হয়ে হাইকোর্টে নতুন রিট পিটিশন আদালতে দায়ের করেন। যে মামলার নম্বর ৬০৪৭/১৮। এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের দ্বৈত বেঞ্চ মামলার শুনানি শেষে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজার উল্লেখিত জমি দখল ফেরত দিতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দেন।আইনজীবি রায়হানুল মোস্তাফা বলেন, প্রধান বিচারপতির আদালতের রায়ের আলোকে ১১৩নম্বর সামরিক আদেশকে অবৈধ ঘোষনা ও রামপুর সমিতির মালিকানা দাবিকৃত উল্লেখিত চিংড়িজমি দখল ফেরত চেয়ে সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৭ মে সমিতির সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লিটন বাদি হয়ে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলাটি দায়ের করেন।
এরই প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদ এর দ্বৈত বেঞ্চ মামলার শুনানী শেষে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে চকরিয়া উপজেলার রামপুর মৌজার উল্লেখিত জমি রামপুর সমিতিকে দখল ফেরত দিতে মৎস্য বিভাগকে নির্দেশ দেন।মামলার বাদি ও রামপুর সমিতির সম্পাদক শহীদুল ইসলাম লিটন বলেন, উচ্চ আদালতের সর্বশেষ আদেশের অনুলিপির কপি কঙবাজার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।