সাতকানিয়া ট্র্যাজেডি

লোহাগাড়ায় আহাজারি

বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না টুনটুনির

নুরুল ইসলাম, লোহাগাড়া
5

সাতকানিয়ায় ইফতার সামগ্রী ও যাকাত নিতে গিয়ে নিহত লোহাগাড়ার তিন মহিলার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তাদের স্বজনদের আহাজারি চলছেই। নিহতদের মধ্যে রয়েছে উত্তর কলাউজান গ্রামের রসুলাবাদপাড়ার আলা উদ্দিনের কন্যা নূর জাহান (২২), আব্দুল হাফেজের স্ত্রী জোসনা আক্তার (৩০) ও কিশোরী ফাতেমা বেগম টুনটুনি (১৫)। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলার গৌড়স’ান গ্রামের নুরুল কবিরের স্ত্রী নূর আয়েশা (৫০)। গুরুতর আহত বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল বেলা রসুলাবাদপাড়া গিয়ে দেখা যায় নুরজাহানের মা লাইয়া বেগম কাঁদছিলেন। এতিম দু’নাতনীকে জড়িয়ে ধরে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, নুর জাহানের রেখে যাওয়া দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। নুর জাহানের ভাই আলী আহমদ জানান, তার ভগ্নিপতি মো. শফি স্ত্রী ও দুমেয়েকে ফেলে ৬ বছর আগে অন্যত্র চলে গেছেন। নুরজাহানের রয়েছে দুই মেয়ে প্রিয়া (৮) ও রিয়া (৬)। প্রিয়া স’ানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। আলী আহমদ বোন ও ২ ভাগ্নিকে দেখাশুনা করে আসছেন। জোসনা আক্তারের ঘরেও ৪ ছেলে মেয়ে। তাদের পরিবারেও চলছে শোকের মাতম।
স্বামী আব্দুল হাফেজ অসুস’ দীর্ঘদিন থেকে, তিনি জানান, অভাব অনটনে সংসার চলছে তাদের। এ অবস’ায় ইফতার ও যাকাত সামগ্রী আনতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরল তার স্ত্রী। জোসনা আক্তারের সন্তানদের মধ্যে দেলোয়ার (১৪), সে জন্মগতভাবে বোবা বলে জানান অসুস’ হাফেজ। ছোট ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩), মেয়ে তানজিনা আক্তার (১২) ও তাহমিনা আক্তার (৯)। তাদের পিতা আব্দুল হাফেজ ৪ সন্তানকে নিয়ে কি করবেন সে চিন্তায় আচ্ছন্ন।
তিনি আরো জানান, জোসনা আক্তারের দাফনের জন্য কেএসআরএম কর্তৃপক্ষের দেওয়া ১০ হাজার টাকা তার (জোসনা) ভাই গ্রহণ করেছেন। উক্ত টাকা তাৎক্ষণিকভাবে হাতে না আসায় দাফনের জন্য কর্জ করতে হয়েছে।
বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলোনা টুনটুনি বেগমের। ইতোমধ্যে তার বিয়ের ফর্দ হয়েছে। কিন’ অর্থ সংকটের কারণে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার দিন পাড়ার অন্যদের সাথে টুনটুনিও গিয়েছিল সাতকানিয়ার নলুয়াতে।
তবে ইফতার ও যাকাত সামগ্রী নিয়ে নয়, বরং ফিরেছে লাশ হয়ে। তার মা কোরবানী বেগম কেঁদে উঠে বলেন তার টুনটুনি কই? তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে কি? কোরবানী বেগমের ভাই চাঁন মিয়া জানান, ভগ্নিপতি দীর্ঘ কয়েক বছর পূর্বে বোনকে তালাক দিয়ে চলে গেছে। টুনটুনি ও তার ছোট ভাইকে নিয়ে সংসার জীবন অতিবাহিত করে আসছে মা কোরবানী বেগম। তাদের সংসারে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন চাঁন মিয়া।
ঘটনাস’লে যান নিহত জোসনা আক্তারের সাথে একই পাড়ার রহিমা ও মল্লিকা। রহিমা জানান, ইফতারি ও যাকাতের প্যাকেট নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, হুড়োহুড়ির মধ্যে পদদলিত হয় অনেকে। মল্লিকা বলেন, ঘটনার সময় নিজেকে রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।