সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

চান্দগাঁওয়ের ত্রাস কাউছার বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক

কথিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নামধারী মো. কাউছার প্রকাশ ইয়াবা কাউছারের চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার দাপটে অসহায় হয়ে পড়েছে চান্দগাঁওয়ের কয়েকটি পরিবার। তার বাহিনী এলাকার লোকজনের ওপর জুলুম-নির্যাতন, মামলা ও জমি দখল করছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ হোসাইন চৌধুরী (পাভেল) বলেন, স’ানীয় আম্বিয়া মসজিদের পাশে মাহমুদা বেগমের ক্রয়কৃত তিন গন্ডা জমির উন্নয়ন কাজ করতে গেলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে কাউছার বাহিনী। চাঁদা না দেয়ায় সেখানে অস্ত্রের মহড়া ও ভাঙচুর চালানো হয়।
এছাড়া চকবাজার থানাধীন ওমর আলী মাতব্বর সড়ক এলাকায় এসএম ইউসুফের ৪ গন্ডা জমিতে উন্নয়নকাজ করার সময় কাউছার বাহিনী ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ ব্যবস’া না নেয়ায় চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
ঘাসিয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ সাহেদ হোসেন এর ৩ গন্ডা জমিতে সৃষ্ট ভাড়াঘর থেকে ৩ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় সেখানকার ভাড়াটিয়াদের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
চান্দগাঁওয়ে ওমর আলী মাতব্বর সড়কের আচি শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় মোহাম্মদ ইদ্রিসের ২ গন্ডা জমি দখল করে পদ্মকুঞ্জ নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে কাউছার বাহিনী মাদকের আসর বসিয়েছে। এছাড়া চান্দগাঁও থানার সামনে নিউ চান্দগাঁও নামে গেস্ট হাউস খুলে চালানো হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলেন, চান্দগাঁওয়ের ‘ত্রাস’ কাউছার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসীর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। কেউ তার অপকর্মের প্রতিবাদ করলে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। প্রতিবাদকারীদের ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। স’ানীয় কাউন্সিলর, চান্দগাঁও এবং চকবাজার থানায় একাধিক অভিযোগ করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস’া নেয়া হয়নি। ফলে দিন দিন সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তার ভয়ে অনেকেই এখন এলাকাছাড়া।
নির্যাতিতরা অবিলম্বে ‘চাঁদাবাজ’ কাউছার ও তার বাহিনীকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপসি’ত ছিলেন সাহেদ হোসেন, এস এম ইউসুফ, মাহমুদা বেগম ও অধীর চৌধুরী প্রমুখ।