এইউডব্লিউর ষষ্ঠ সমাবর্তনে তাওয়াক্কুল কারমান

দেখতে হবে স্বপ্ন করতে হবে পরিশ্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন’র (এইউডব্লিউ) ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শান্তিতে নোবেলজয়ী তাওয়াক্কুল কারমান বলেছেন, ‘দুর্নীতি, যুদ্ধ, গণহত্যা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী। ক্ষমতার লোভে বিভিন্ন দেশের শাসকগোষ্ঠী জনগণকে হত্যা করছে। কিন’ এভাবে চলতে দেয়া যাবে না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্বকে পরিবর্তন করতে হবে। নিজের দেশকে ভালোবাসতে হবে। সবার আগে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এজন্য অনেক স্বপ্ন দেখা প্রয়োজন। আর স্বপ্ন পূরণে করতে হবে কঠোর পরিশ্রম।’
নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে গতকাল শনিবার সকালে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
নোবেলজয়ী এই ইয়েমেনি নাগরিক তাওয়াক্কুল কারমান ‘আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ ও ‘জয় বাংলা’ বলে বক্তব্য শুরু করেন।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণরা বিশ্বকে পরিবর্তন করতে পারবে। শান্তির জন্য কাজ করতে হবে। এ জন্য তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘শিক্ষা, গণতন্ত্র, নারীর অধিকার নিশ্চিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমপ্রতি নারীর ক্ষমতায়নের জন্য অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘নারীরা দেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এর কারণ, তারা শিক্ষা-দীক্ষায় দক্ষতা অর্জন করছে।’
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. দিপু মনি বলেন, ‘তারুণ্য পারবে পৃথিবীকে বদলে দিতে। তোমাদের দরকার এই বিশ্বের। তাই লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত থাকো।’
ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলর শেরি ব্লেয়ার বলেন, ‘দশ বছর আগে ছোট ক্যাম্পাস নিয়ে এই ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১৫ টি দেশের স্টুডেন্ট
এখানে পড়াশোনা করছে।’
ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ বলেন, ‘মাত্র মাত্র ৩০ জন স্টুডেন্ট নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। এখনো পর্যন্ত ৭৫০ জন গ্র্যাজুয়েট পাশ করে বের হয়েছেন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলামের ওপর জোর দেই। এজন্য আমাদের স্টুডেন্টরা সব দিকে যোগ্যতা অর্জন করে।’

সমাবর্তনে ১৬৯ জন গ্র্যাজুয়েটের হাতে সনদ তুলে দেয়া হয়। ভালো ফলাফল ও অসাধারণ নেতৃত্বগুণের জন্য ছয় জন গ্র্যাজুয়েটকে ‘অ্যান্ডি মাটসুই’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।
এছাড়াও এবারের সমাবর্তনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃত স্বরূপ মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক তাওয়াক্কুল কারমান এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সেরাগেলদিনকে ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, শিক্ষক, ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপসি’ত ছিলেন।
শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইউনিভার্সিটির দশ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নগরী জিইসি এমএম আলী রোডে অস’ায়ী ক্যাম্পাসে এই ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়।