এসএসসির ফলাফল চার অদম্যের জয়যাত্রা

সুমন শাহ্, আনোয়ারা
Anwara_News_SSC-04-Success_

অদম্য মেধাবী রিপা আকতারের সংগ্রাম গল্পকেও হার মানায়। বাধা ডিঙিয়ে রিপা এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আনোয়ারা উপজেলার দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাশ করা রিপার পিতা মোহাম্মদ হাসান পেশায় রিকশাচালক। মফস্বল থেকে উঠে আসা যে কোন শিক্ষার্থীর জন্য তা তাক লাগানো ফলাফল। রিপার মতই এই স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে চার শিক্ষার্থী। যাদের প্রত্যেকের জীবন যেন একেকটি সংগ্রাম আর কষ্টের কাব্যগাঁথা। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পিছিয়ে পড়া পরিবার থেকে উঠে এসে চমকপ্রদ ফলাফলের কারণে স্বভাবতই শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি সবাই দারুন খুশি।এবার প্রথমবারের মত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের হার ৮৮ শতাংশ। যা উপজেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৬৬জন পরিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৫৮জন।
॥ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। এই স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া সামিয়া জামান নামে অপর শিক্ষার্থীর পিতা জাহিদ হোসেন টিংকু ক্ষুদ্র আসবাবপত্র ব্যবসায়ী।
উম্মে ফাতেমা রেশমীর পিতা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত, মা এনজিও সংস’ার মাঠকর্মী, অপর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সাদিয়া আফরোজের বাবা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। মৃত্যুর আগে রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন। সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘বিদ্যুতের বিল বেশি আসার ভয়ে ঘরে বেশি সময় আলো জ্বালিয়ে লেখাপড়া করা সম্ভব ছিল না।
মাঝেমধ্যে কুপি জ্বালিয়ে পড়ালেখা করতে হতো। অনেক সময় তেলের অভাবে কুপিও জ্বালানো যেত না। টিফিন ছুটিতে না খেয়েই থাকতে হতো। তবু ভেঙে পড়েনি। রিপা আকতারের পিতা রিকশা চালক মোহাম্মদ হাসান বলেন, অনেক সময় না খেয়ে থেকেছি। তারপরও মেয়ের লেখাপড়ায় এতটুকু ঘাটতি হতে দিইনি। রিকশাচালক হয়েও মেয়ের জন্য কম্পিউটার কিনেছি। সেদিন অনেকে মুখ টিপে হেসেছেন। আজ মেয়ে আমার মুখ উজ্বল করেছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী চৌধুরী বলেন,গরিব হলেও পড়ালেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে সহযোগিতা করা হতো। তারা আমাদের মুখ উজ্বল করেছে।
স্কুল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন,পাড়াগাঁয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানেরাও ফলাফলে চমক দেখাতে পারে। দক্ষিণ বন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ অদম্য শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ প্রাপ্তির মাধ্যমে সেটা করে দেখিয়েছে।